বাংলাদেশকে রান পাহাড়েই চাপা দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। রাইলি রুশোর সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশের সামনে ২০৬ রানের পাহাড়সম টার্গেট দিয়েছে প্রোটিয়ারা।
বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে বোলিংয়ে পাঠিয়েছিল প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। ব্যাটিংয়ে নেমে আফ্রিকার ইনিংসেও বাঁধা দিয়েছিলো বৃষ্টি। পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টি নামায় বন্ধ হয়েছিলো খেলা। অবশ্য বেশি সময় বন্ধ থাকেনি, মিনিট পনের পরেই বৃষ্টি থামলে আবারও মাঠে নেমেছে দুই দল।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই নিজের উইকেট খুইয়ে প্রোটিয়াদের বিপদে ফেলেছিলেন অধিনায়ক বাভুমা। তবে তার উইকেটটি যেন শাপেবর হয়ে এলো প্রোটিয়াদের জন্য। বাভুমা আউট হওয়ার পর কুইন্টন ডি কক আর রুশো মিলে খাপখোলা তলোয়ারের মতো ব্যাট চালিয়েছেন টাইগার বোলারদের ওপর দিয়ে। এই দুজনের তান্ডব লীলায় নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেয়াটে ২০৫ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।
বোলিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই প্রোটিয়া অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে ফিরিয়ে বাংলাদশকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ। তবে এরপর আর তেমন সুবিধা করতে পারেননি অবশ্য।
প্রথম ওভারেই উইকেট নেওয়ার পর আর দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটারদের তোপের মুখেই পড়ে বাংলাদেশ। ডি কক আর তিনে নামা রুশো মিলে তান্ডব চালিয়েছেন টাইগার বোলারদের ওপর। বাংলাদেশের কোনো বোলারই থামাতে পারেনি প্রোটিয়া ব্যাটারদের তান্ডব, বরং বৃষ্টি এসেই থামিয়েছে তাদের।
মিরাজের দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মেরে শুরু করেন ডি কক। তারপর থেকে যেন খাপখোলা তলোয়ারের মত চলেছে ডি কক-রুশোর ব্যাট।
প্রথম ওভারে উইকেট তুলে নিলেও তাসকিনের করা তৃতীয় ওভার থেকেই ২১ রান তুলেছেন দুই ব্যাটার মিলে। চতুর্থ ওভারে হাসান মাহমুদ বোলিংয়ে এসেও সুবিধা করতে পারেননি তেমন।
মিরাজের করা পঞ্চম ওভার থেকে দুই ছক্কায় রুশো একাই তুলেছেন ১৪ রান। পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারের প্রথম তিন বল খেলা হওয়ার পরি এসসিজির আকাশজুড়ে বৃষ্টি নামায় বন্ধ হয়ে যায় খেলা।
বৃষ্টির আগে ৫.৩ ওভারে ১ উইকেটেি ৬০ রান তুলে ফেলে দক্ষিন আফ্রিকা। বৃষ্টির কারণে প্রায় মিনিট পনের মতো বন্ধ থাকার পর আবার খেলা শুরু হলে পাওয়ার প্লে'র ৬ ওভার শেষে ১ উইকেটে ৬৩ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা।
পাওয়ার প্লে শেষ হলেও রুশো-ডি ককের তান্ডব আর শেষ হয়নি। ডি-ককের চেয়ে রুশোই ছিলেন বেশি আগ্রাসী। ১০ ওভারেই প্রোটিয়ারা স্কোরবোর্ডে তিলে ফেলে ৯১ রান। ২ চার আর ৪ ছক্কায় রুশো তুলে নেয় নিজের ফিফটিও।
ফিফটির পর যেন আরও মারমুখী হয়েছেন রুশো। সাকিবের করা ১১তম ওভার থেকে ১ চার আর ২ ছক্কায় রুশো তোলে ২১ রান।
১৩তম ওভারে গিয়ে ফিফটি তুলে নেন ডি-ককও। হাসান মাহমুদের ওভারের দ্বিতীয় বলে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরেই ৩৩ বলে নিজের ফিফটি তুলে নেনে প্রোটিয়া উইকেটরক্ষক।
পরের ওভারে তাসকিনের ওপর দিয়ে আবারো তান্ডব চালিয়েছেন দুজন মিলে। ডি ককের ১ ছয়ের সঙ্গে রুশোর তিন চারে ওই ওভার থেকে ওঠে ২৩ রান।
১৫তম ওভারে পার্ট টাইমার আফিফের হাতে বল তুলে দেন সাকিব। অবশেষে আফিফই বাংলাদেশকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু। ৩৮ বলে ৬৩ রান করা ডি কককে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান আফিফ। ১৬৩ রানের জুটি ভেঙে দলীয় ১৭০ রানে আউট হন ডি-কক।
সাকিব আলা হাসানের ১৭তম ওভারে গিয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন রুশো। ওভারের চতুর্থ বলটি পয়েন্টে ঠেলে দিয়েই ১ রান নিয়ে ৫২ বলে নিজের সেঞ্চুরি তুলে নেন প্রোটিয়া এই ব্যাটার।
ওই ওভারের প্রথম বলে অবশ্য ট্রিস্টান স্টাবসকে হারিয়েছিলো আফ্রিকা। তবে রুশোর সেঞ্চুরিতে ভইইর করে রান পাহাড়ের দিকেই ছুটে চলে প্রোটিয়ারা।
তবে ১৮তম ওভারে এসে হাসান মাহমুদ চেপে ধরেছিলো রুশো-মার্করামকে। শেষদিকে যেখানে রান তোলার তাড়া সেখানেই এই ওভারে হাসআন মাহমুদ দেন মাত্র ৫ রান।
১৯তম ওভারে এসে অবশেষে রুশোকে তুলে নেন সাকিব। কাভারে লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ার আগে ৭ চার আর ৮ ছক্কায় ৫৬ বলে ১০৯ রান করেন রুশো। ওভার থেকে আসে মাত্র ৪ রান।
হাসান মাহমুদের করা ইনিংসের শেষ ওভারেও বেশি রান তুলতে পারেনই দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ওভার থেকে একাটি উইকেটের সঙ্গে আসে মাত্র ৭ রান। শেষ ৩ ওভারের রান স্বল্পতায় নির্ধারিত ২০ ওভারে শেষে ৫ উইকেটে ২০৫ রান তুলেই সন্তষ্ট থাকতে হয় প্রোটিয়াদের। এই ৩ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকা তোলে মাত্র ১৬ রান। নাহলে আফ্রিকার সংগ্রহ হতে পারতো আরো বেশি।
বাংলাদেশের হয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। আর ১ টি করে উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ আর আফিফ হোসেন।
