বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নাসিরনগরে ডাকাত আতঙ্কে মসজিদে মাইকিং

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২২, ০৩:২৯

নাসিরনগরে মসজিদের মাইকে ‘পুলিশ বলছে ডাকাত আসতে পারে’ বলে এমন ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সংবাদ দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তে গোটা উপজেলায় ভাইরাল হয় ডাকাত আতঙ্ক।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাত্ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুলিকুন্ডা গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মসজিদের মাইকে ঘোষণা করেন ‘পুলিশ বলছে এলাকায় ডাকাত পড়েছে, সবাই ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসুন, ডাকাত পড়েছে এলাকায়।’ মুহূর্তে সে খবর ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়ও। মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। কিন্তু সকালে বিভিন্ন ইউনিয়নে খবর নিয়ে জানা যায়, কোথাও কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ‘ডাকাত আসছে’ খবরটি মসজিদের মাইকে শুনেছেন বলে জানান। অনেকেই এটা বিশ্বাস করে আত্মীয়স্বজনদের ফোন করে সারারাত সজাগ থাকতে সতর্ক করেন। তার পরই একযোগে সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতে থাকেন। এর পর আতঙ্ক আরো বেশি ছড়িয়ে পড়ে। পরে জেলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে বিভিন্ন জায়গায় টহল দেওয়া হয়। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়।

নাসিরনগর সদরের কুলিকুন্ডা ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, পুলিশ রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফোন করে বলছে নাসিরনগরে ডাকাত আসছে। যে কোনো সময় যে কোনো গ্রামে প্রবেশ করে ডাকাতি করতে পারে, তাই আপনারা সর্তক থাকুন এবং গ্রামের নিরাপত্তা দিতে স্থানীয়দের নিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করুন। আমরা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী কাজ করেছি। চাতলপাড় ইউনিয়নের মো. আব্দুল হাকিম তার আইডি থেকে লিখেন-‘২৩ জনের একটি ভয়ংকর ডাকাত গ্যাং নাসিরনগর প্রবেশ করেছে, সবাই সাবধান।’

নাসিরনগর থানার ওসি মো. হাবিবুল্লাহ সরকার জানান, বাহুবল, মাধবপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে নাসিরনগর উপজেলার মানুষকে সতর্ক করতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। কিছু কিছু এলাকার জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে বলা হয়েছিল, সতর্ক থাকতে এবং কোনো তথ্য পেলে পুলিশকে জানানোর জন্য। কিন্তু এ ঘটনাকে কেউ কেউ অতিউত্সাহী হয়ে অতিরঞ্জিত করেছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি