রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে আজ শনিবার দুপুরে শুরু হবে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। শুক্রবার রাত থেকে দলে দলে সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। অনেকে গত বৃহস্পতিবার এসে সমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকায় অবস্থান করছেন।
দুপুর ২টায় রংপুর কালেক্টরেট মাঠে শুরু হবে বিএনপির গণসমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সকাল থেকেই ভিড় করছেন নেতাকর্মীরা। তাদের বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত সমাবেশস্থল।
সকাল ৮টার দিকে নগরীর সাতমাথায় কথা হয় কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ীর স্কুল শিক্ষক বেলাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ৫০টি অটোরিকশা নিয়ে ভোর ৪টায় বের হয়েছি। চার ঘণ্টায় রংপুরে এসে পৌঁছেছি।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার একটি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাহবুব হোসেন বলেন, প্রায় ৯০ কিলোমিটার অটোরিকশায় এসে মাহিগঞ্জে পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়। পরে অটোরিকশা ছেড়ে ৫০ নেতাকর্মীকে নিয়ে সাত কিলোমিটার পথ হেঁটে সমাবেশে এসেছি।
এদিকে, শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) ভোর থেকে চলছে পরিবহন মালিক সমিতির ডাকা বাস ধর্মঘট। ধর্মঘট চললেও বিভাগের আট জেলা বিশেষ করে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাক বাস ভাড়া করে এবং ট্রেনযোগে রংপুরে এসে পৌঁছেছেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। তারা নগরীর বিভিন্ন অস্থায়ী ক্যাম্পে অবস্থান নেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর বিভাগীয় সমাবেশের সমন্বয়কারী এ জেড এম জাহেদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ সরকারের টনক নড়ে গেছে। সারাদেশে গণজাগরণ দেখে ভয় পেয়েছে। সেজন্য সমাবেশের আগে বাস বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আমাদের এ সমাবেশকে প্রতিহত করতে পারবে না তারা৷
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) কমিশনার নুরে আলম মিনা গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছি। সমাবেশ ঘিরে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা না ঘটে, সেজন্য কয়েক দফায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।
এদিকে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টসহ সমাবেশ মাঠের আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
