দুই শিশু কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন আইনজীবী রাশেদুল হক বেপারী (৪২)। ব্যক্তিগত মাইক্রোবাস চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। গাড়িটি খাদে পরে দুই বছর বয়সী শিশুকন্যা মাইশা ও রাশেদুল ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান।
রোববার (৩০ অক্টোবর) ভোর রাতে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের নড়িয়া উপজেলার জামতলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নিহত রাশেদুল শরীয়তপুর সদর উপজেলার দাদপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন স্ত্রী মিলি আক্তার (৩৫), মেয়ে মেবিন আক্তার (৬) ও গাড়ির চালক কামরুল হাসান (২৭)।
রাশেদুলের স্বজনরা জানান, সদরের তুলাতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেনের ছেলে রাশেদুল হক শরীয়তপুর জজ কোর্টের আইনজীবী ছিলেন। তিনি জজ কোর্টের এপিপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বুধবার স্ত্রী, সন্তান ও কয়েকজন আত্মীয় নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে কক্সবাজারে যান। শনিবার বেলা ১১ টার দিকে ব্যক্তিগত মাইক্রোবাসে করে গ্রামের দিকে রওনা হন। ঢাকার উত্তরায় ৫ আত্মীয়কে নামিয়ে দিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শরীয়তপুরের দিকে রওনা হন। তখন গাড়িটি চালাচ্ছিলেন রাশেদুল হক। পদ্মা সেতু পার হওয়ার পর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের নড়িয়ার জামতলা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি খাদে পরে পানিতে ডুবে যায়। পরে চালক কামরুল হাসান সকলকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রাশেদুল ও তার মেয়ে মাইশাকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
রাশেদুলের গাড়ির চালক কামরুল হাসান বলেন, ঢাকার উত্তরা থেকে ভাইয়া গাড়িটি চালাচ্ছিল। কয়েক দফা তাকে বলে আমিই গাড়িটি চালাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি দেননি। জামতলা এলাকায় আসার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ছিটকে গাড়িটি খাদের পানিতে পড়ে যায়। সবাই পানিতে তলিয়ে যাই। তখন সড়ক ছিলো ফাঁকা। উদ্ধার করার জন্য কাউকে পাইনি। ৮-১০ মিনিটের চেষ্টায় আমি গাড়ি থেকে বের হই। তখন একে একে সকলকে গাড়ি থেকে বের করি। ততক্ষণে ভাইয়া ও তার ২ বছর বয়সী মেয়ে প্রাণ হারায়।
রোববার সকাল ১০টার দিকে রাশেদুল হকের বাড়ি দাদপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় রাশেদুল ও তার মেয়ের মৃত্যু মানতে পারছে না কেউ। এমন খবর পেয়ে আত্মীয়-স্বজন, গ্রামবাসী ও সহকারী আইজীবীরা তাদের বাড়িতে ছুটে এসেছেন। তার স্ত্রী মিলি আক্তার কান্না করতে করতে বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন।
মিলি আক্তার বলেন, ছোট মেয়েটা আমার কোলে ও বড় মেয়েটা পাশে বসে আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাচ্ছিল। গাড়ি চলছিল, হঠাৎ গাড়িটি ছিটকে পড়ে যায়। এরপর আর কিছু মনে নেই। আল্লাহ কেন আমাদের সঙ্গে এমন করলেন? আমি এখন ছোট মেয়েটি নিয়ে কোথায় যাব? আমাদেরকে আগলে রাখবে?
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আইনজীবী রাশেদুল হকের মৃত্যুতে আজ রোববার আইনজীবীরা জেলার সব আদালতে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। তার নামাজের জানাজা শরীয়তপুর সদর উপজেলার দাদপুর গ্রামে বিকালে অনুষ্ঠিত হবে।
নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, মাইক্রোবাস খাদে পড়ে আইনজীবী ও তার শিশু কন্যার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওই ব্যক্তি নিজেই গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় মামলা হয়নি।
