‘সন্ত্রাসীরা যখন সন্ত্রাস করে, তখন পুলিশ-পাবলিক কাউকেই দেখে না’

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২২, ১৫:৩২

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেছেন, ‘সন্ত্রাসীরা যখন সন্ত্রাস করে তখন তারা পুলিশ বা পাবলিক কাউকেই দেখে না। তাদের স্বার্থের জন্য যেটা দরকার তারা সেটাই করবে। একটি এলাকায় যখন খারাপ কিছু আসে তখন তা শুধু সাধারণ মানুষের ওপরই প্রভাব পড়ে না পুলিশের ওপরও পড়ে। আমাদের এই মাদারীপুরে এক সময় সর্বহারাদের স্বর্গরাজ্য ছিল। তখন আমাদের অনেক নেতা-কর্মীদের যেমন হত্যা করা হয়েছে তেমনি পুলিশও কিন্তু রেহাই পায়নি। তখন ফাঁড়িও লুট হয়েছে, পুলিশকেও হত্যা করা হয়েছে।’ 

শনিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে মাদারীপুর পুলিশ লাইনস ড্রিলসেডে জেলা পুলিশের আয়োজনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন । 

আগে দুপুরে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কমিউনিটি পুলিশিং ডের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান এমপি। 

এ সময় মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনীর চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ওবাইদুর রহমান খান, পৌর মেয়র খালিদ হোসেন ইয়াদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে, সাবেক পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খলিলুর রহমান খান। 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম ও অপস) চাইলাউ মারমা, শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রাজিবুল ইসলাম।

পুরস্কার বিতরণ করছেন চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন। ছবি: ইত্তেফাক

মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মনিরুজ্জামান ফকির। 

অনুষ্ঠান শেষে কমিউনিটি পুলিশিং এ অনবদ্য অবদান রাখায় কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কমিউনিটি কমিটির সভাপতি মো. সজিব হাওলাদার ও পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় কুমারকে পুরস্কৃত করা হয়।

চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, ‘পুলিশ শব্দটি এমন একটি শব্দ যেটা বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় নাম। বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন তার বাসায় পুলিশের কী ভূমিকা ছিল তা যারা ইতিহাস পড়বেন তারাই ভালো জানবেন। সেদিন পুলিশই কিন্তু চেষ্টা করার একটি সাহসী পদক্ষেপ নিতে গিয়েছিল। এদেশে যখন বোমাতংক, বাংলা ভাই, বিভিন্ন সন্ত্রাসী ছিল তখনও কিন্তু পুলিশের বলিষ্ঠ ভূমিকা আমরা দেখেছি। ঢাকা শহর দখলের যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল সেদিনও কিন্তু পুলিশের সাহসী ভূমিকা আমরা দেখেছি।’

এছাড়া রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর হোসেন, কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম হোসেন, ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান, শিবচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে স্ব-স্ব থানায় বর্ণাঢ্য র‌্যালিটি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় । 

ইত্তেফাক/এমএএম