ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার এই বাজেট:সিপিবি

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ২২:২১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান ও গতানুগতিক আখ্যায়িত করে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহম্মদ শাহ আলম বলেছেন, এটা সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থরক্ষার গণবিরোধী দলিল। এই বাজেটে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির অন্যতম সমাজতন্ত্রের কোনো প্রতিফলন নেই। রাজস্ব আয়ে পরোক্ষ কর প্রত্যক্ষ করের দ্বিগুণ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য কিছু প্রতীকী পদক্ষেপের ছিটেফোঁটা যুক্ত করা হয়েছে। বাজেটের তথ্য-ভিত্তির বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে বাজেট সম্পর্কে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তারা এসব কথা বলেন। 

সিপিবি নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষের পরিশ্রমের বিনিময়ে অর্থনীতির যে প্রবৃদ্ধি ঘটছে তার মাত্র ১ শতাংশ তাদেরকে দিয়ে ৯৯ শতাংশই ১ শতাংশ লুটেরা ধনিকদের পকেটস্থ করার প্রক্রিয়াকে মদদ দেওয়ার দর্শনেই এ বাজেট প্রণীত হয়েছে। এ বাজেট লুটেরা ধনিকদের আরো ধনী করবে এবং গরিব-মধ্যবিত্তকে আপেক্ষিকভাবে আরো দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসহায় করে তুলবে।

সেলিম ও শাহ আলম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে খেলাপী ঋণগ্রহীতাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার পরিবর্তে সুদের হার কমানো হয়েছে। এ বাজেটের আসল লক্ষ্য হলো জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেশি-বিদেশি লুটপাটকারীদের পকেট ভারি করা। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এবারের বাজেটের আকার যেমন স্মরণকালের সর্বোচ্চ তেমনি ঘাটতির পরিমাণও স্মরণকালের সর্বোচ্চ। ঘাটতির পরিমাণ ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। বাজেট প্রস্তাবে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে অর্জিত হবে তা সুস্পষ্ট নয়। বিপুল পরিমাণ বাজেট ঘাটতি মেটানোর জন্য ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে বাজেটের পরিমাণকে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এই অর্থের বেশিরভাগ খরচ হবে পূর্বেকার ঋণ পরিশোধ, বিশাল সিভিল-মিলিটারি প্রশাসনের রক্ষণাবেক্ষণ, বিলাসদ্রব্য আমদানি, অপচয়, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন প্রকারের সিস্টেম লস, কর-রেয়াতের নামে ধনিক শ্রেণিকে বিশাল ভর্তুকি প্রদান ইত্যাদি কাজে। এসবই হলো লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থে গৃহীত পদক্ষেপ। এই বাজেট জাতির অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নৈরাজ্য, অস্থিতিশীলতা ও নাজুকতা বাড়িয়ে তুলবে।