পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবি

সিলেটে দ্বিতীয় দিনের পণ্য পরিবহন ধর্মঘট, বাজারে অস্বস্তি

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২২, ১৬:০২

সিলেটে বন্ধ পাথর কোয়ারিগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো পণ্য পরিবহন ধর্মঘট চলছে। সোমবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার এই ধর্মঘট শুরু হয়।

পণ্য পরিবহন ধর্মঘট নিয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তারা বলছেন, কথায় কথায় ধর্মঘট ডাকা সিলেটে একটি ‘ফ্যাশন’ হয়ে গেছে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনকে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ এ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। আগামীকাল বুধবার সকাল ৬টায় এই ধর্মঘট শেষ হওয়ার কথা।

প্রথম দিনের মতো ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও কোনো ট্রাক, ট্যাংকলরি, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান চলাচল করতে দিচ্ছেন না মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা-কর্মীরা। বিভিন্ন স্থানে তারা পিকেটিং করছেন। ফলে শত পণ্যবাহী গাড়ি আটকা পড়েছে।

এদিকে, ধর্মঘটের কারণে সিলেটের পাইকারি ও খুচরা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নগরীর সোবহানীঘাটস্থ সবজির পাইকারি বাজার থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে সবজি যায় খুচরা বাজারে। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে পাইকারি বাজারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সবজি নিয়ে আসতে পারেনি চালকেরা।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালিঘাটেও পণ্য সরবরাহ বন্ধ।

ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে গত রোববার (৩০ অক্টোবর) পরিবহন শ্রমিকদের নিয়ে বৈঠকে বসে জেলা প্রশাসন। তবে সেই বৈঠকে কোনো ফল আসেনি।

পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানান, সিলেটের পাথর দিয়ে সারাদেশে নির্মাণকাজ চলে। সিলেটের ভোলাগঞ্জ, বিছানাকান্দি, জাফলং ও লোভাছড়া কোয়ারিগুলো থেকে পাথর উত্তোলনে প্রায় ১৫ লাখ ব্যবসায়ী, শ্রমিক এবং পরিবহন শ্রমিক ও মালিকরা জড়িত। কিন্তু গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিকরা সংকটে আছেন। অধিকাংশ ট্রাকমালিক ঋণ-কিস্তি দিয়ে ট্রাক কিনেছেন। কিন্তু পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় ট্রাক মালিকরা পর্যাপ্ত ট্রিপ পাচ্ছেন না। ফলে তারা দেনায় জর্জরিত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে বলা হয়েছে, সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোতে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চলায়, সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে।

অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ে পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার বিষয়টি জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটিও সিলেটে আসার কথা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, পাথর তোলার দাবির প্রেক্ষিতে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর কমিটির সদস্যরা সিলেটের কোয়ারিগুলো পরিদর্শনে আসবেন। তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখবেন, পাথর তোলার যৌক্তিকতা আছে কি না। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি আরও জানান, পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার ক্ষমতা জেলা প্রশাসনের নেই। বিষয়টি তিনি পরিবহন নেতাদের জানিয়েছেন।

বিভাগীয় ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বীর আহমদ ফয়েজ বলেন, পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে আমাদের ধর্মঘট চলছে। তবে আগামীকাল সকাল ৬টার পরিবর্তে আজ (১ নভেম্বর) দিনগত রাত ১২টায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হতে পারে।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সাথে আমাদের আলোচনা হয়েছে। ৩ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের যে প্রতিনিধি দল আসছেন, তাদের সাথে আমাদের দেখা করার সুযোগ করে দেবেন বলে জানিয়েছে প্রশাসন। সেখানে আমরা আমাদের দাবি জানাবো।

ইত্তেফাক/এসকে