কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে চলছে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এর শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে আছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সম্মেলনে উপস্থিত বিভিন্ন নেতার মধ্যে পারস্পারিক কুশল বিনিময় হলেও ইমরানকে এড়িয়ে চলছেন মোদি। এর মধ্যে গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে কঠোর বার্তা দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, সন্ত্রাসে মদদদাতাদের ক্ষমা নেই। এসময় ইমরান খানকে মোদির দিকে তাকিয়ে তার বক্তব্য শুনতে দেখা যায়।
মোদি তার ভাষণে বলেন, সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থদান করছে যেসব দেশ তাদের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। গোটা ভারত সন্ত্রাসমুক্ত সমাজের পক্ষে। সেখানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে উসকানিদাতাদেরকে তারা ঘৃণা করবে এটাই স্বাভাবিক। সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের উদ্দীপনা ও আদর্শকে সামনে রেখে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে লড়াই করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ইমরান খানের সামনে মোদি আরো বলেন, মুখে মুখে কাউকে শান্তি আলোচনায় আগ্রহ দেখালে হবে না। এসব লোক দেখানো উদ্যোগ কোনো কাজে আসে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়তে হলে সংকীর্ণ পরিসর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। গত রবিবার শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে আমি সেন্ট অ্যান্টনিজ চার্চে গিয়েছিলাম। সেখানে আমি সন্ত্রাসের কুিসত রূপের সাক্ষী হলাম। সন্ত্রাস সর্বত্র নিরীহদের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, এসসিও হলো চীনের নেতৃত্বে ৮ সদস্য দেশের একটি অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্লক। ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান সংগঠনটির সদস্যপদ লাভ করে।
এই শীর্ষ বৈঠকের আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি দ্বিপাক্ষিক সংলাপে অনুরোধ করে ভারতকে পৃথক দুটি চিঠি লেখেন। ইমরান মোদিকে লেখেন, তিনি সব ব্যাপারে কথা বলতে রাজি আছেন। এমনকী কাশ্মীর নিয়েও। তবে মোদি সংলাপে কোনো আগ্রহ দেখাননি। এমনকি তিনি এই সম্মেলনে যাবার সময় পাকিস্তানের আকাশপথও এড়িয়ে চলেন। খবর এনডিটিভির।
