উত্তরায় উবার চালককে গলা কেটে হত্যা

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ২২:৩৯

রাজধানীতে গাড়ির ভেতরে এক উবার চালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর সড়কের ৫২ নম্বর বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। নিহত উবার চালক আরমান ওরফে আমান (৩৭) পাবনার ঈশ্বরদী থানার ফতে মোহাম্মদপুরের মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে। মিরপুর ১১ নম্বরের একটি বাড়িতে তিনি ভাড়া থাকতেন। মিরপুর ১১ নম্বরের ৬ নম্বর লেনের এক ব্যবসায়ীর গাড়ির চালক ছিলেন আরমান। তার ৭টি প্রাইভেটকার রয়েছে, সবগুলোই উবারে ভাড়া দেওয়া। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গতকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। নিহত আরমান গত ৬ মাস ধরে উবারে এই গাড়িটি চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি।

স্থানীয় নিরাপত্তাকর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে ১৬ নম্বর সড়কে বিকট শব্দ শুনে তারা সেখানে যান। দেখেন সড়কের আইল্যান্ডের সঙ্গে একটি গাড়ির সংঘর্ষ হয়েছে কিন্তু তখনও স্টার্ট বন্ধ হয়নি। ভেতরে চালকের আসনে এক ব্যক্তির গলাকাটা মরদেহ। খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

গাড়ি মালিকের ছোট ভাই অন্তর বলেন, আরমান রামপুরার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২১ মিনিটে উবারে কল পেয়ে যাত্রী নিয়ে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে যান। সেখানে ১২টা ৪ মিনিটে তার ট্রিপ শেষ করে মিরপুরে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১টার বেশি বেজে গেলেও তার কোনো খোঁজ না পাওয়ায় আমি  আরমানকে ফোন দেই। তখন অন্য একজন ফোন রিসিভ করে জানান, তার দুর্ঘটনা ঘটেছে। আর আমাকে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসতে বলেন। পরবর্তীতে আমি আরেকটি গাড়ি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি গাড়ির ভেতর আরমানের গলাকাটা মরদেহ।

তিনি আরও বলেন, আরমান প্রায় এক বছর যাবত্ আমাদের গাড়ি চালান। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে আমরা দুজন মিরপুরের একটি হোটেলে খাওয়া-দাওয়া করি। পরে সে      আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে বেরিয়ে যায়।

আরমানের স্বজনরা জানান, নারায়ণগঞ্জে তার ছোট বোনের বিয়ে। বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ হয়। রাতেই গাড়ি মালিকের কাছে বুঝিয়ে তার সেখানে যাবার কথা ছিল। কিন্তু কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট নিহত চালকের মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহিন বলেন, নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মামলা করবেন। হত্যার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ছিনতাইকারী না পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরো বলেন, ছিনতাইকারী হলে তো গাড়ি নিয়ে যেত। তাছাড়া আরমানের মোবাইল ফোন, ঘড়ি, মানিব্যাগ কিছুই খোয়া যায়নি। ঘটনাস্থলের আশ-পাশ ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায় একটি গাড়ি এসে রাস্তার পাশের ড্রেনের ওপর আটকে গেছে। ফুটেজে আর কিছু বোঝা যাচ্ছে না।  উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, কি কারণে চালককে হত্যা করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোনো ফোন নম্বর দিয়ে উবার চালককে ডাকা হয়েছিল এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে বেশিকিছু বলা যাবে না।