নরসিংদীতে ফুলন রানী বর্মণ (২২) নামে এক কলেজছাত্রীর শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর শরীরের ২৫ ভাগ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিত্সকরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সঞ্জীব রায় নামে ফুলনের বড় ভাইয়ের শ্যালককে আটক করা হয়েছে।
দগ্ধ ফুলন রানী বর্মণ বীরপুর মহল্লার যোগেন্দ্র বর্মণের মেয়ে এবং নরসিংদীর উদয়ন কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পাস করেছেন। দগ্ধ কলেজছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি দোকান থেকে মোবাইল রিচার্জ শেষে বাসায় ফিরছিল ফুলন। এ সময় হঠাত্ করে অজ্ঞাতপরিচয় দুই দুর্বৃত্ত তার হাত-মুখ চেপে ধরে পাশের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে কেরোসিন ঢেলে তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ফুলনের ডাকচিত্কার শুনে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে।
গতকাল শুক্রবার সকালে নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. মিরাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, শহরের বীরপুরে কলেজছাত্রীর গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের সদস্যরা ছুটে যায়। ঘটনাস্থল থেকে অগ্নিদগ্ধ পোশাক, চুল, দিয়াশলাইসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ঘটনার পর বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রতিটি বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়ে থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। দগ্ধ তরুণীর বাবাকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি এলেই মামলা করা হবে। ফুলনের বাবা যুগেন্দ্র বর্মণ দলিল লেখকের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।
