শনিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

লাইনম্যান ক্লিয়ারেন্স দিলে গাঁজা নিয়ে আসত চক্রটি

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২, ০২:০০

একটি মাদক কারবারি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা মেট্রো কার্যালয় (উত্তর)। সম্প্রতি সাভার ও উত্তরায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা  হলেন—মো. রুবেল, মো. ফারুক দেওয়ান, মো. নুর উদ্দিন দেওয়ান ও মো. রাব্বি। তাদের কাছ থেকে ২৯ কেজি গাঁজাসহ একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মো. জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার এবং একটি বিদেশি অস্ত্র ও ২৯ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে। আমরা দুই মাস আগে রুবেলের নেতৃত্বাধীন এই মাদক সিন্ডিকেটের সন্ধান পাই। প্রাপ্ত তথ্য ও উপাত্তের ভিত্তিতে গত মাসে তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালালেও তারা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

তিনি বলেন, এর মধ্যেই জানতে পারি, চক্রটি গাঁজার একটি বড় চালান হবিগঞ্জ থেকে উত্তরায় মজুতের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসবে। সে অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ১০ নম্বর সেক্টরের ১৩ রোডে আমরা অবস্থান নিই। গাঁজা পরিবহনকালে তাদের ব্যবহূত একটি প্রাইভেট কারের গতি রোধ করে ২০ কেজি গাঁজাসহ তাদের গ্রেফতার করি। তিনি আরো বলেন, গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রুবেলের বসতবাড়িতে আরো গাঁজা মজুত রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের সামাইর গ্রামে রুবেলের বাসায় অভিযান চালিয়ে আরো ৯ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়। গাঁজা জব্দের সময় তার বসতবাড়িতে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল (ম্যাগাজিনসহ) জব্দ করা হয়। পিস্তলের বিষয়ে রুবেল জিজ্ঞাসাবাদে জানান, পিস্তলটি তিনি বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহার করতেন।

মো. জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, রুবেলের নেতৃত্বে সাভার ও উত্তরা এলাকায় এই সক্রিয় চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা ও ইয়াবা সরবরাহ করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। চক্রটি গাজীপুর, ঢাকা কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকাতেও গাঁজা ও ইয়াবা সরবরাহ করত। নিজ এলাকায় মাদক কারবারে আধিপত্য বিস্তারের জন্য রুবেল অস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন বলে প্রাথমিভাবে জানা গেছে। এর আগেও হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা থেকে তারা গাঁজার একাধিক চালান এনে প্রতি কেজি গাঁজা ৫০ হাজার টাকা দরে কিনে ঢাকায় এনে দ্বিগুণ দামে বিক্রি করতেন।

মো. জাফরুল্লাহ কাজল বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য গাঁজা পরিবহনকালে তারা একাধিক প্রোটোকল মেইনটেন করতেন। তাদের একটি গ্রুপ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিভিন্ন টহল টিম ও চেকপোস্ট সম্পর্কে আরেকটি গ্রুপকে (মাদক পরিবহনকারী) ক্লিয়ারেন্স দিলে তারা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতেন। এভাবে তারা হবিগঞ্জ থেকে ঢাকা পর্যন্ত তাদের ভাষায় লাইনম্যান নিয়োগ করে মাদক পরিবহন করতেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ