মাদারীপুরে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। কেবল জেলা সদর হাসপাতালেই ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩২জন রোগী। যার ৮০ শতাংশই শিশু। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ফ্লোরে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা। রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল ঘুরে তথ্য সংগ্রহের সময় কথা হয় মাদারীপুর সদর উপজেলার চরলক্ষ্মীপুরের ষাটোর্ধ্ব সালাম বেপারির সঙ্গে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন জেলা সদর হাসপাতালে। বেড না পাওয়ায় তাকে তিন দিন ধরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ফ্লোরে। ডায়রিয়ার আক্রান্ত হয়ে মোস্তফাপুর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তিন বছরের শিশু মীম আক্তার। আর ছিলারচরের শিশু ইউসুফ ও আয়ান টানা ৪ দিন ধরে অসুস্থ। তাদের মতো প্রতিদিন গড়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ২০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। যার অর্ধেকের বেশি শিশু। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা চিকিত্সক ও নার্সদের।
মাদারীপুর সদর উপজেলার মঠেরবাজার এলাকা থেকে আসা রোগী আয়ানের মা বিথি আক্তার বলেন, হঠাৎ করেই দিনে সাত-আট বার পাতলা পায়খানা করলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করি। এখনো অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতাল সিনিয়র স্টাফ নার্স লাবনী আক্তার জানান, মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে ডায়েরিয়া রোগীর জন্য আসন বরাদ্দ মাত্র ছয়টি। অথচ প্রতিদিন গড়ে ২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। গেল এক সপ্তাহে দেড় শতাধিক রোগী এই রোগের চিকিত্সা নিয়েছেন। আসন বরাদ্দ বেশি হলে রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
মাদারীপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. খলিলুজ্জামান হিমু বলেন, খাবার খাওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা ও ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তরল খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মূলত আবহাওয়া পরিবর্তন ও ভাইরাসজনিত কারণেই ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
