শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

হত্যার পর মালয়েশিয়া পাড়ি, দেশে এসে গ্রেফতার

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২, ০৫:৩০

২০১০ সালে ময়মনসিংহে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে খুন হন কাজিম উদ্দিন। ঘটনার পর মামলাও হয়। মামলার প্রধান আসামি ছিলেন মো. সোহেল মিয়া (৩৫)। এরপর পালিয়ে যান তিনি। মাঝে গ্রেফতার হয়ে জেলও খাটেন। জামিন পেয়ে একসময় মালয়েশিয়া চলে যান। এভাবে দেশে-বিদেশে দীর্ঘ ১২ বছর পলাতক ছিলেন তিনি। সবশেষ তাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। রাজধানীর মতিঝিল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‍্যাব-৩-এর কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সোহেল মিয়া আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে পালিয়ে থাকেন। ২০১৩ সালে অভিযোগপত্র দাখিলের পর ১০ মাস জেল খেটে বের হন জামিনে। এরপর ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপে কাজ করতেন, কিন্তু ভিসা জটিলতায় ২০১৯ সালে তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়। দেশে এসে গ্রামের বাড়ি ফিরে না গিয়ে বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যান। এরপর থেকেই কমলাপুর এলাকায় কখনো পাগল বেশে ভিক্ষা করে, আবার কখনো রিকশা চালিয়ে পলাতক জীবন যাপন করেন। মাঝেমধ্যে আবার মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও রাখতেন।

র‍্যাব-৩ জানায়, নিহত কাজিম উদ্দিন ও সোহেল মিয়া একই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক সম্পত্তির দখল নিয়ে তাদের দুই পরিবারের মধ্যে ছিল বিরোধ। এ কারণে ভিকটিম কাজিম উদ্দিন একটি দেওয়ানি মামলাও করেছিলেন। এরপর ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বরে বাঁশ কাটা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে হত্যার শিকার হন কাজিম উদ্দিন। সেদিন তাকে বেধড়ক পেটান সোহেল মিয়া ও মামলার অন্য আসামিরা।

একপর্যায়ে সোহেল মিয়া বাঁশের লাঠি দিয়ে কাজিম উদ্দিনের মাথায় আঘাত করেন। এতে মাথার মগজ বের হয়ে আসে কাজিম উদ্দিনের। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত কাজিম উদ্দিনের ভাতিজা মো. নয়ন মিয়া বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় সোহেল মিয়াকে প্রধান আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

ইত্তেফাক/এমএএম