অর্থনৈতিক অস্থিরতা প্রকট হওয়ার আশঙ্কা

আপডেট : ১৪ জুন ২০১৯, ২২:৪৫

উন্নয়ন অন্বেষণের বাজেট পর্যালোচনা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

অর্থনৈতিক খাতসমূহের ভারসাম্যহীনতা সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা প্রকটতর করবে বলে উল্লেখ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঘোষিত বাজেটে সর্বজনের কথা বলা হলেও বাস্তবে গোষ্ঠীতন্ত্রের স্বার্থ হাসিল হবে। বাজেটে জনগণের মৌলিক সমস্যা সমাধানের পর্যাপ্ত দিক-নির্দেশনার অভাব রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য, অসমতা, বেকারত্ব, সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক খাতগুলো অবহেলিত রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির অস্থিরতা ও জনগণের সেবা প্রাপ্তির দুষ্প্রাপ্যতা সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এই বাজেটে লক্ষণীয় নয়। বরং অর্থনীতি ক্রমাগত একটি ঋণ চক্রজালে জড়িয়ে পড়ছে।

উন্নয়ন অন্বেষণের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, জাতীয় আয়ের হিসেবে গরমিল রয়েছে। জাতীয় আয় বৃদ্ধির কথা বলা হলেও এর চলকগুলোর চিত্র ভিন্ন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জিডিপির তুলনায় সঞ্চয় বেড়েছে সামান্য। ফলে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অপরদিকে মানুষের আয় বাড়লে ভোগ বাড়ার কথা। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই ভোগ কমেছে। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতার কারণে বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে না। বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায়ের পরিমাণ যেমন কম তেমনি করের আওতাও বাড়েনি। মোট জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ করদাতা। সামর্থবান মানুষের ৬৮ শতাংশই করের আওতায় নেই। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় কর-জিডিপি হারও কম। বাজেটের একটা বড় অংশ চলে যাচ্ছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানে। সর্বশেষ বাজেটে জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অবসরের পরেও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ এবং পদের তুলনায় অত্যধিক পদোন্নতির ফলে সরকারি কর্মচারীদের উচ্চপদে আসীন কর্মকর্তাদের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে বেতনভাতা।

বৈদেশিক লেনদেন স্থিতির ভারসাম্যহীনতা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি লক্ষণীয়। গত দুই বছর ধরে রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের শ্লথ গতি এবং আমদানি ব্যয়ের উচ্চ প্রবৃদ্ধি চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ব্যাপক চাপ তৈরি করছে। উন্নয়ন অন্বেষণ বলছে,  শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো খাত সবচেয়ে অবহেলিত। এই খাতে অবকাঠামো খরচ বাড়লেও গুণগত মান কমছে। উত্পাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি হ্রাসের কারণে কৃষিখাতে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বাড়ছে না। বিশেষত শস্য উত্পাদনে নেতিবাচক লক্ষণ স্পষ্ট। ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের দৈন্যদশা আর্থিক খাতকে আরও নাজুক অবস্থায় ফেলছে। ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে অবস্থা আরও বেগতিক হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।