পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতে আগামী সোমবার (৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব। ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব ও পূণ্যস্নান অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রতিবছর রাস মেলা উপলক্ষে কুয়াকাটায় আগমন করে লক্ষাধিক পর্যটক ও পূন্যার্থী।
তবে কুয়াকাটায় এবারের রাস মেলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাস ও লঞ্চ ধর্মঘট। বরিশালে আগামীকাল শনিবার (৫ নভেম্বর) বিএপির বিভাগীয় সমাবেশ উপলক্ষে জেলায় বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয় বাস মিনিবাস মালিক সমিতি। যেহেতু সোমবার (৭ নভেম্বর) রাত থেকে মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) চলবে এই উৎসব। বাস-মিনিবাস ধর্মঘটের ফলে পর্যটকসহ পূন্যার্থীদের কুয়াকাটা আগমনে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটবে। ফলে পর্যটনশিল্পে ব্যাপক পরিমানে ক্ষতির আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্ণিমার তিথি অনুযায়ী, সোমবার রাত থেকে শুরু করে মঙ্গলবার সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে পূণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মূল রাস উৎসব। উৎসবের রাতে কুয়াকাটায় রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
কুয়াকাটা রাস উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি বিপুল চন্দ্র হাওলাদার জানান, সোমবার প্রত্যুষে লাখো পূণ্যার্থীর সমুদ্রস্নানের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে পূণ্যস্নান।
পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুয়াকাটার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ উৎসব এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ মেডিক্যাল টিম, র্যাব-পুলিশের যৌথ টিম এবং সমুদ্র সৈকতে বিপুল সংখ্যক সাদা পোশাকধারী আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
পাশাপাশি প্রতি বছরের মত এবারও কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত ও কলাপাড়ায় রাস মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
কলাপাড়া শ্রী শ্রী মদনমোহন সেবাশ্রম রাস উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি হীরা হাওলাদার স্বপন জানান, রাস পূঁজার উপকরণ সামগ্রী ও বাদ্যযন্ত্র সহকারে কুলবধূদের কুঞ্জ পরিভ্রমণ, শ্রীশ্রী গোপাল ও যোহমায়ার মূর্তি নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ ও জগন্নাথ মন্দিরে গমন, প্রতিদিনের ভোগরাগ ও পূঁজার্চনা, ভক্তবৃন্দের আগমন, কুঞ্জ প্রদক্ষিণ, যুগল দর্শন, সন্ধ্যারতি কীর্তন ও মহোৎসবের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
পাশাপাশি সেবাশ্রম অঙ্গনের ৫ দিনব্যাপী মেলায় দেশীয় লোকজ সংস্কৃতির কারুকার্য খচিত কুটির শিল্পের পসরাসহ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানাদি পালনের বই-পত্র, ছবি ও গৃহস্থালি কাজের উপকরণ থাকছে ক্রেতাদের জন্য।
সোমবার দিবাগত রাতে কুয়াকাটার রাস মেলা প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পদাবলী কীর্তন ও ধর্মীয় আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।
কুয়াকাটা অনন্যা ভিলা রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের পুরোহিত অনন্ত মুখার্জী জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরেও অনন্যা ভিলা রাধা কৃষ্ণ মন্দিরে স্থাপিত মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের চার ফুট উচ্চতা সম্পন্ন ১৬৩ কেজি ওজনের যুগল প্রতিমা দর্শনেও ভিড় জমবে হাজারো ভক্তের। আর ভক্তদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে খাবারের।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংকর চন্দ্র বৈদ্য জানান, রাস উৎসব ও মেলার আইন শৃংখলা রক্ষার জন্য প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।কুয়াকাটায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, স্যানিটেশন, চিকিৎসা সেবাসহ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খোন্দকার মো. আবুল খায়ের বলেন, রাস মেলা উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিপুর সংখ্যক পুলিশ ফোর্স দেওয়া হয়েছে আগত পর্যটকসহ পূন্যার্থীদের নিরাপত্তায়। উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হবে পর্যটন এলাকায়।
