শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৭ আশ্বিন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

এসএসসি পরীক্ষার্থীর তৈরি প্লেন উড়ছে আকাশে!

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২২, ১৮:১১

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পল্লীতে করোনাকালীন অবসরকে কাজে লাগিয়ে প্লেন বানিয়ে এলাকাবাসীকে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী বোরহান মোড়ল। সে উপজেলার আলাদিপুর গ্রামের আতিয়ার মোড়লের ছেলে।

চলতি বছর তালা বি.দে সরকারি বিদ্যালয়ের থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে বোরহান। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় ইউটিউবে ভিডিও দেখে প্লেন বানাতে আগ্রহী হয়ে ওঠে সে। ১১ বার চেষ্টার পর প্লেনটি উড়াতে সফল হয় বোরহান। এখন তার তৈরি প্লেনটি দেখতে ভিড় জমায় তালা উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলাদিপুর জাতপুরের মানুষ।

জানা গেছে, ককশিট, মোটরসহ অন্যান্য সরঞ্জামের সমন্বয়ে ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের এই প্লেনটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। প্রথম দশবার ব্যর্থ হলেও এগারো বার চেষ্টার পর সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে প্লেনটি উড়াতে সফল হয় সে। প্লেনটি ১ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। তার এই উদ্ভাবনে পাশে থেকে আর্থিক ও মানসিকভাবে সহযোগিতা করেছে তার পরিবার।

প্লেন তৈরির অভিজ্ঞতা জানিয়ে বোরহান মোড়ল জানায়, ‘করোনাকালীন অবসরে আমি ইউটিউব দেখতাম। হঠাৎ একদিন দেখতে পাই একটি ভিডিওতে প্লেন তৈরি করছে। বিষয়টি দেখে আমি আগ্রহী হই। পরবর্তীতে বিভিন্ন অনলাইন সাইটে গিয়ে প্লেন তৈরির সরঞ্জাম অর্ডার করি। ককশিট, মোটরসহ অন্যান্য সরঞ্জাম দিয়ে প্লেনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রথমদিকে এটিকে উড়াতে পারছিলাম না। ১০ বার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। ১০টি প্লেনের সরঞ্জাম নষ্ট হয়েছে এতে সব মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে আমার। শেষে প্লেন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি এবং সেটা এখন সফলভাবে আকাশে উড়ছে। পরবর্তীতে পরিকল্পনা রয়েছে ভিন্নধর্মী আরও কিছু করার।’

তালায় এসএসসি পরীক্ষার্থী বোরহান মোড়লের তৈরি প্লেন উড়ছে আকাশে!

প্লেনে কার্যকারিতা নিয়ে সে জানায়, এই প্লেনটি কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহার করে কৃষকরা বেশি উপকৃত হতে পারবেন। কৃষি জমিতে কিটনাশক স্প্রে করাসহ কিছু ক্ষেত্রে বেশ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। তবে সরকারি কোনো সহায়তা পেলে কাজগুলো আরও সফলভাবে করা সম্ভব হবে বরে জানায় সে।

বারহানের বাবা আতিয়ার মোড়ল বলেন, ‘বোরহান এই পর্যন্ত ১০টি প্লেন তৈরি করেছে কিন্তু সেগুলো আকাশে উড়াতে পারেনি। ১১ বারে সফলতা পেয়েছে, এখন তার প্লেনটি আকাশে উড়ছে। বিভিন্ন এলাকার লোকজন এটা দেখতে আসে। তার এমন ভিন্নধর্মী কর্মকার্তা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।’

মা বিউটি বেগম বলেন, ‘প্রথমদিকে ছেলের এ সকল কার্যক্রম দেখে বিরক্ত হলেও পরে তার সফলতা দেখে বেশ আনন্দিত হয়েছি। এখন প্রতিদিনই বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লোকজন আসে ছেলের তৈরি প্লেনটি দেখতে। মা হয়ে আমি গর্ববোধ করছি। মেধা কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে সে যেন আরও নতুন আবিষ্কার করতে পারে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আব্দুল মান্নান জানান, বোরহান এলাকার ছেলে সে মেধা খাটিয়ে যে প্লেনটি তৈরি করেছে সেটি উড়তে দেখে ভালো লাগছে। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা যদি তাকে সহযোগিতা করে সেক্ষেত্রে নতুন আবিষ্কার দিয়ে কৃষিসহ অন্যান্য খাতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে পারবে সে।

তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি মাসের ৯ তারিখে তালা উপজেলায় ডিজিটাল মেলা হবে সেখানে বোরহান অংশগ্রহণ করলে তাকে যাচাই-বাছাই পর্যবেক্ষণ করে একটি রিপোর্ট সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সরকার যদি সেটার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে সেক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করা হবে।

তালা ব্রজেন দে (বি.দে) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজান কবির জানান, ‘বোরহান আমার স্কুলের ছাত্র। সে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। এত অল্প বয়সে তার এমন আবিষ্কার সকলকে চমকে দিয়েছে। এখনকার ছেলেরা ভালো কাজের চেয়ে খারাপের দিকে আগ্রহ বেশি থাকে। সেদিক দিয়ে বোরহানের কর্মকার্তা ভিন্নধর্মী। তার তৈরি প্লেনটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন আসছে। মেধাকে ঠিক পথে ব্যবহার করলে পরবর্তীতে আরও ভালো কিছু করতে পারবে সে। আমার বিদ্যালয়ের ছাত্র সে, তাকে নিয়ে গর্ববোধ করছি।’

ইত্তেফাক/বিএএফ