স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ দুর্ঘটনা হচ্ছে চকবাজারের চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ড। যে মর্মান্তিক ঘটনায় ঝরে যায় অন্তত ৭৮টি তাজা প্রাণ। ভয়াবহ এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে সরকার। দেশব্যাপী জনবসতিপূূর্ণ এলাকা থেকে কেমিক্যালের গোডাউন সরানোর জন্য অভিযান পরিচালনা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে নারায়ণগঞ্জের টানবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতটি পরিচালনায় ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট মো. উজ্জল হোসেন ও মো. কামরুল হাসান মারুফ। অভিযানে সব ধরনের দাহ্য পদার্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলার জন্য ১০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ১০ দিনের জায়গায় সাড়ে ৩ মাস পেরিয়ে গেলেও এখানো আগের মতোই চলছে টানবাজারে কেমিক্যাল ব্যবসা।
গত বৃহস্পতিবার টানবাজারে গিয়ে দেখা গেছে দোকানে কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম ও গ্যালন সাজিয়ে রাখার দৃশ্য। অধিকাংশ কেমিক্যাল ব্যবসায়ী ভুলে গেছেন অভিযানের কথা। অনেকে আবার ১০ দিনের দেওয়া নোটিশটিও পাননি। কারণ সেই অভিযানের পর আর কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়নি। ফলে আবারো আগের মতোই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবাধে দাহ্য কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম, গ্যালন গোডাউন ও দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, তাঁরা কোন কোন কেমিক্যাল রাখতে পারবেন না এরকম কোনো নির্দেশনা তাদের দেওয়া হয়নি। যে কারণে এখনো অধিকাংশ দোকানেই কেমিক্যাল ভর্তি ড্রাম রাখা আছে। আর এসব দেখেও একদিনের অভিযান শেষে আবারো চুপ হয়ে গেছে প্রশাসন। টানবাজারে কখনো অগ্নিকাণ্ড ঘটলে এর ভয়াবহতা প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, জায়গাটি ঘনবসতিপূর্ণ। তাই এখানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে খুবই ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। আমরা বিভিন্ন সময়ে সেখানে গিয়েছি। সবাই বলেন যে, তাদের কোনো গোডাউন নেই। আসলে তারা গোডাউন সবসময় তালা দিয়ে রাখেন। তাই বোঝার উপায় নেই কোনটি গোডাউন। আমরা তাদেরকে নোটিশ দিয়েছি। বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। কি কি কেমিক্যাল তারা রাখেন এর তালিকা বাইরে টাঙিয়ে রাখতে বলেছি। যাতে অগ্নিকাণ্ড কখনো ঘটলে সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে, কিভাবে তাড়াতাড়ি আগুন নেভানো যাবে। কিন্তু সবাই আমাদের কথা শুনছেন না।
এ প্রসঙ্গে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের সংগঠন ইয়ান মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম সোলাইমান বলেন, অভিযানের পর ১০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল। এর ৯ দিনের মাথায় আমাদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের মিটিং হয়। সেখানে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেই মিটিংয়ে আমরা সময় নিয়েছি, বিষয়টি মিটমাট করেছি।
এ প্রসঙ্গে তত্কালীন অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জল হোসেন বলেন, অভিযান পরিচালনার পর আমরা ১০ দিনের সময় দিয়ে চলে আসি। এরপর তারা ডিসির সঙ্গে মিটিং করেন। সেখানে কি সিদ্ধান্ত হয়েছিল তা ডিসিই জানেন। আমাদের কাছে আর কোনো আদেশ আসেনি তাই নতুন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
