ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মামলা করায় বাদীর বাবা আব্দুল হামিদ খান পাঠান ওরফে তারা মিয়াকে (৭০) বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে আসামিরা।
শুক্রবার (৪ নভেম্বর) উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের নিজামাবাদ বাসাবাড়ি গ্রামে আসামিদের বাড়িতে গাছে বাঁধা অবস্থায় বৃদ্ধা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় বাবাকে উদ্ধার করতে পুলিশের জরুরি সেবার ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে মেয়ে লাইলী আক্তার। নির্যাতনের শিকার বয়োবৃদ্ধ তারা মিয়াকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তারা মিয়া জানান, আমার পুত্র রুবেল মিয়ার ৪০ শতাংশ জমি হাবিবুর রহমান আবু (৪০), আশিক খান পাঠান (২০), আছিয়া খাতুন (৩৫), কালা মিয়া খান পাঠান (২৭), নয়ন মিয়া খান পাঠান (৩৪) গংরা জোর করে দখলের পায়তারা করে আসছে। এ ঘটনায় আমার পুত্র বাদী হয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করে। তারা যেন জোরপূর্বক এ জমি দখল করতে না পারে সে জন্য ১৪৪ ধারা জারি প্রার্থনাও করা হয়। এ মামলায় বৃহস্পতিবার আদালতে ওরা হাজিরা দিয়ে জামিনে আসে।
তিনি আরও জানান, জামিনে এসেই আমার পুত্র রুবেল মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। শুক্রবার সকালে বাড়িতে এসে তাকে না পেয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যায়। ওদের বাড়িতে গাছের সঙ্গে বেঁধে মাটিতে ফেলে নির্যাতন করা হয়।
এদিকে রুবেল মিয়া জানায়, তিনি ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিজ দখলে থাকা নিজামাবাদ মৌজার বিআরএস ৫২১৮ এবং ৫২১০ দাগের ৪০শতাংশ জমিতে ১৪৪ ধারা জারির জন্যে ১১৬৯ নং মোকদ্দমা দায়ের করেন। এ মামলা দায়ের করায় তার বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে খবর পেয়ে তিনি গৌরীপুর থানায় ছুটে আসেন। তার ছোট বোন লাইলী আক্তার পুলিশের জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ নাম্বারেও কল করেন। খবর পেয়ে গৌরীপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. হানিফ মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছে বেঁধে মাটিতে ফেলে নির্যাতন চলাকালে আমার বাবাকে উদ্ধার করে। তাকে চিকিৎসার জন্য গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন গৌরীপুর থানার সাব ইন্সপেক্টর মো. হানিফ মিয়া। তিনি জানান, কাপড় দিয়ে বৃদ্ধ আব্দুল হামিদ খান পাঠান ওরফে তারা মিয়াকে গাছে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেছি।
গৌরীপুর থানার ওসি খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী জানান, পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাদিপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানান, আসামিরা বৃহস্পতিবার জামিনে এসে শুক্রবার বাদীর বাবাকে ধরে নির্যাতনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। সুবিচারের জন্য বিষয়টি বিজ্ঞ বিচারককে অবহিত করা হবে।
জানা যায়, হাবিবুর রহমান আবু গংদের সঙ্গে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। মৃত খালে খান পাঠানের পুত্র আব্দুল হামিদ খান পাঠান ওরফে তারা মিয়া বাদী হয়ে এ বছরের ২০ জানুয়ারি ১৪৪ ধারা জারির জন্যে ১৫৫ নং মামলা দায়ের করে। নিজামাবাদ মৌজার এসএ ১৪১৪ ও বিআরএস ৫২১০ ও ৫২১১ দাগের ৩০ জমিতে নিয়ে ময়মনসিংহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়াও শান্তি বিঘ্নের আশঙ্কায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭ ধারা আরও একটি মামলা করেন তিনি। গত ২৭ জুলাই ধানের চারা রোপনে বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. রুবেল মিয়া বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি মামলা করেন। এ মামলার প্রতিবেদন ৩ আগস্ট আদালতে প্রদান করেছে পুলিশ। আসামিদের অপর হামলা-লুটপাটের ঘটনায় ২ আগস্ট রুবেলের স্ত্রী ইয়াসমিন বাদী হয়ে ময়মনসিংহ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪নং আদালতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন।
রুবেল মিয়া জানান, আসামিদের অত্যাচার-নির্যাতন থেকে বাঁচাতে একাধিকবার আইনের আশ্রয় নিয়েও আমরা বাঁচতে পারছি না।
