বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ৬ বারের সফল সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বলেছেন, আজকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ হচ্ছে। সারা বিশ্ব থমকে গেছে। এই যুদ্ধের কারণে আমাদের খাদ্য সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। তেল আমদানী বন্ধ হয়ে গেছে। ডলার সংকট হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বার বার বলছে আপনাদের একখণ্ড জমিও যেন চাষাবাদের বাইরে না থাকে। যেন কোনো ধরনের ঝুঁকি না থাকে। আর পাশাপাশি বিরোধী দল বিএনপি, জাতীয় পার্টি এই জায়গায় ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তারা এখন আন্দোলনের নামে এই বিষয়টিকে জটিল করার চেষ্টা করছে। তারা শুধু ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমরা চাই বিরোধী দল রাজনীতি করবে। বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে। আবার বিপদের সময় বিরোধী দল সরকারের পাশে থাকবে। এটাই হলো বিরোধী দলের ভূমিকা। যখন করোনা মহামারি শুরু হয়। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। খাবারের ব্যবস্থা নেই। তখন তো বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টিকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে দেখিনি।
শনিবার (৫ নভেম্বর) সকালে চৌধুরী ফাতেমা বেগম পৌর অডিটোরিয়ামে দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু শিবির ও দ্বিতীয়খণ্ডে লিটন চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবনের শুভ উদ্বোধন শেষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
চীফ হুইপ বলেন, খেলা হবে। আবাহনী-মোহামেডানও খেলা হয়। আবাহনী-ওয়ারীও হয়। ওয়ারীর সঙ্গে খেলে তো মজা নাই। খেলা হবে। তবে ভাবতে হবে আপনাদের টিমটা কিন্তু এখন তৃতীয় বিভাগে চলে গেছে। আওয়ামী লীগের মতো প্রথম বিভাগের দলের সঙ্গে খেলার মতো খেলোয়ার এখন আর আপনাদের নাই। আগে খেলোয়ার তৈরি করেন। ওই পজিশনে আসেন। তারপর খেলার ঘোষণা দেন। আর যেনতেনভাবে খেলতে গেলে ৭ গোল ১০ গোল খাবেন। কই বাংলাদেশের কোনো দুর্যোগে আমাদের পাশে তাদের পাই না। আপনারা পার্শ্ববর্তী ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখেন সেখানে কিন্তু সকল ক্রাইসিস মুহূর্তে সবাই মিলে মোকাবিলা করে। ভারতে আমরা দেখেছি করোনার সময় বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতা করেছে, যেন মানুষ না মারা যায়। কিন্তু আমাদের দেশে তা নেই। আমাদের দেশে দুর্যোগে সরকারকে কীভাবে আরও বিপদে ফেলা যায় বিরোধী দল তাই করে।
এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুনীর চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম (বার) পিপিএম, শিবচর ডায়াবেটিক সমিতির চেয়ারম্যান রাজিয়া চৌধুরী।
শিবচর ডায়াবেটিক সমিতির চেয়ারম্যান রাজিয়া চৌধুরী বলেন, শিবচরে অনেক রোগী আছে যাদের অনেক কষ্ট করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ফরিদপুর যেতে হয়। আমরা শিবচর ডায়াবেটিক সমিতি কাজ করে যাচ্ছি যাতে কষ্ট করে দূরে রোগীদের যেতে না হয়।
লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের জেলা গভর্নর লায়ন প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমরা প্রতি বছর অক্টোবর থেকে এই সেবামূলক কাজ শুরু করি। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে এই চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শিবচরের ক্যাম্পে ২০ জন চিকিৎসক চক্ষু রোগী দেখছেন। এখান থেকে যাদের চোখের ছানি অপারেশন দরকার হবে তাদের আমরা বিনা খরচে আমাদের ঢাকার হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করার ব্যবস্থা করবো।
ঢাকাস্থ শিবচর উপজেলা সমিতির সভাপতি ডা: সেলিম আকন্দের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এম মজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এতে আরও উপস্থিত ছিলেন লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের জেলা গভর্নর লায়ন প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ লায়ন্স ফাউন্ডেশনের অ্যাম্বাসেডর অব গুডউইল ও চেয়ারম্যান লায়ন এ কে এম রেজাউল হক, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট ঢাকার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ মোল্লা, শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রাজিবুল ইসলাম, পৌর মেয়র আওলাদ হোসেন খান, শিবচর থানার ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকেই।
