শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পাইপলাইনের অর্থের ব্যবহার বাড়াতে আইএমএফের তাগিদ

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২, ০৩:০০

বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে পাইপলাইনে থাকা অর্থায়নের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রতি বছর উন্নয়ন সহযোগীদের মাধ্যমে যে পরিমাণ অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে সে পরিমাণ ছাড় হচ্ছে না। অর্থছাড় কমে যাওয়ায় পাইপলাইনের আকারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পাইপলাইনে পড়ে থাকা বৈদেশিক ঋণের অর্থছাড় বাড়াতে তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। 

গতকাল সোমবার বাংলাদেশে সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে অর্থছাড় বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা যায়। গতকাল পৃথক আরেকটি বৈঠকে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে অটোমেশনে গুরুত্ব দিয়েছে আইএমএফ। ঋণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফ প্রতিনিধিদল গতকাল কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করেছে। আইএমএফ-এর দক্ষিণ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনান্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা অবস্থান করছেন। তবে বৈঠকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি ইআরডি সচিব শরিফা খান। 

এ বিষয়ে ইআরডির কর্মকর্তা জানান, পাইপলাইনে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারের মতো জমা আছে। সেখান থেকে অর্থ খরচ বাড়াতে হবে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানো দরকার। সেই সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির ক্ষেত্রে ইআরডির দক্ষতাও বাড়াতে হবে। বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলোর আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলেছে প্রতিনিধিদল। 

ইআরডি সূত্রে জানা যায়, বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে থাকলেও ২০২৪ সালের পর দায়দেনা পরিশোধের চাপ বাড়বে। বর্তমানে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বিদেশি দায়দেনা পরিশোধ করা হয় ১ দশমিক ১ শতাংশের মতো। ২০২৬ সাল নাগাদ তা দ্বিগুণ হতে পারে। তখন বাংলাদেশ সমস্যায় পড়বে কি না, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে আইএমএফ। তবে ইআরডি বলছে, বর্তমান জিডিপির তুলনায় দায়দেনা পরিস্থিতি উদ্বেগ পর্যায়ে নেই। সামনের দিনগুলোতে দায়দেনা বাড়লেও সেই সময়ে বাংলাদেশের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

বিএসইসির সঙ্গে বৈঠকে গুরুত্ব পেল অটোমেশন: এদিকে আইএমএফ প্রতিনিধিদল গতকাল সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে। বৈঠক শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাংবাদিকদের বলেন, আইএমএফ প্রতিনিধিদল আলোচনায় কোনো সুপারিশ করেনি। তারা মূলত দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে রিস্ক ম্যানেজমেন্টসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কথা বলেছে। এ ছাড়া তারা অটোমেশনের ওপর জোর দিয়েছে। তবে ‘ফ্লোর প্রাইস’ নিয়ে কথা হয়নি। গতকাল বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামসহ বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। 

এ বিষয়ে রেজাউল করিম আরো বলেন, এটি একটি রুটিন বৈঠক। আইএমএফ যতবার বাংলাদেশে আসে প্রতিবার এ ধরনের বৈঠক করেন।  তিনি জানান, আইএমএফ আলোচনা করেছে বিএসইসি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে কী কী উদ্যোগ নিয়েছে সেটা নিয়ে। ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ডের ব্যাপারে তারা খুব সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এটা একটি ভালো উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন তারা। এটা বাজার উন্নয়নে অনেক ভূমিকা রাখবে বলে তারা কমিশনকে ধন্যবাদ জানান। 

রেজাউল করিম জানান, রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (রিটস) এ ধরনের নতুন নতুন প্রডাক্ট কীভাবে পুঁজিবাজারে আনা যায় সে বিষয়ে তারা সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। এসব বিষয়ে আরো বেশি উদ্যোগ নেওয়ার জন্য তারা বিএসইসিকে অনুরোধ করেছে। এ ছাড়া কমোডিটি এক্সচেঞ্জসহ পুঁজিবাজার অবকাঠামো উন্নয়নে তারা কারিগরি সহযোগিতা করবে। বিএসইসি যে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ নিয়ে কাজ এগিয়েছে সেটা নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব বন্ড বাজারে আনতে তারা সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে। এ ধরনের বন্ডের চাহিদা ও জোগান বাড়াতে তারা সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তবে তারা কোনো সুপারিশ করেনি। তারা মূলত দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে রিস্ক ম্যানেজমন্টসহ অবকাঠামো উন্নয়নে কথা বলেছে। এ ছাড়া তারা অটোমেশনের ওপর জোর দিয়েছে। শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বেঁধে দেওয়া বা ফ্লোর প্রাইস নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইস কনসেপ্টটি তাদের জানা নেই। ফ্লোর প্রাইস নিয়ে কোনো আলোচনার সুযোগই ছিল না।

 

ইত্তেফাক/ইআ