রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

খেরসনে লুটপাট চালাচ্ছে রাশিয়া: ইউক্রেন

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২২, ১৫:২০

রাশিয়ার অধিকৃত খেরসন অঞ্চল নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। সাধারণ মানুষের পোশাক পরে রুশ সেনারা ফাঁকা বাড়িঘরগুলোতে লুটপাট চালানোর অভিযোগ করেছে ইউক্রেন। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন শহরে বেসামরিক পোশাক পরে রুশ সেনারা রাস্তার মোড়ে মোড়ে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বলে জানিয়েছে কিয়েভ। সম্প্রতি শহরটি পুনর্দখলের জন্য ইউক্রেনের হামলার সতর্কতায় বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নিতে শুরু করে রাশিয়া। 

শত্রুদের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

পুতিন প্রশাসন দাবি করেছে, শত্রুদের বিরুদ্ধে রুশ বাহিনীর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর প্রথম এই অঞ্চলটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় মস্কো।

উভয়পক্ষের সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম এবিসি নিউজ জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে খেরসনের প্রায় ৩ লাখ মানুষ অন্ধকারে রয়েছেন। তীব্র ঠাণ্ডা আর পানির অভাবে দুর্বিষহ অবস্থা সেখানকার বাসিন্দাদের।

ইউক্রেন বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় খেরসনের বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

রুশ সমর্থিত খেরসনের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইউক্রেন বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় খেরসনের বিদ্যুৎ সরবরাহের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করতে কাজ করছেন। 

অপরদিকে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাশিয়া দেড় কিলোমিটার বিদ্যুৎ সংযোগ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ফলে যতক্ষণ না পর্যন্ত শহরটি ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে আসছে ততক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়।

কিয়েভের অভিযোগ খেরসন অঞ্চলের লোকজনকে জোর করে সরানো হচ্ছে এবং এটি যুদ্ধাপরাধের সামিল। তবে মস্কো দাবি করেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে লোকজনকে সরানো হচ্ছে। বেসামরিক লোকদের অপব্যবহার করার বিষয়টিও অস্বীকার করছে ক্রেমলিন।

মিখাইলো পোদোলিয়াক

সোমবার (৭ নভেম্বর) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক এক টুইটার পোস্টে জানান, রাশিয়া লোকজনকে খেরসন থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা বলে তাদেরকে জোরপূর্বক উৎখাত করছে। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে রুশ বাহিনী ও রাশিয়ার এফএসবি কর্মকর্তারা তাদের পছন্দের কাজটি করছে। বাসিন্দাদের ফেলে যাওয়া বাড়িঘরে লুটপাট চালাচ্ছে তারা। যেসব মানুষকে সুরক্ষা দিতে এসেছিল তাদের বাড়িঘরেই লুটপাট করছে তারা।

এদিকে, এখনও খেরসন পুনরুদ্ধারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইউক্রেনীয় সেনারা। যদিও খেরসনের ভেতরের পরিস্থিতি কেমন তা প্রকৃতভাবে জানা সম্ভব হয়নি।

ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়ের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর খেরসন

ইউক্রেনের অধিকৃত চারটি অঞ্চলের মধ্যে খেরসন একটি যেখানে গণভোটের আয়োজন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় পুতিন সরকার। এটি ক্রিমিয়া উপদ্বীপের একমাত্র স্থল রুট যা রাশিয়া ২০১৪ সালে দখল করেছে। ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়ের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর খেরসন।

ইত্তেফাক/ডিএস