শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ঝিনাইদহে হাট-বাজারে উঠেছে নতুন ধান, শুরুতেই দাম চড়া

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৩২

ঝিনাইদহে আমন ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। বাজারে নতুন ধানের আমদানি বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে দামও চড়ে গেছে। পাশাপাশি চালের দামেও ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চাষিরা বলছে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলন কম হচ্ছে।

ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৪ হাজার ৩৩৩ হেক্টরে রোপা আমন ধানের চাষ হয়। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আমন চাষের শুরুতেই চাষিদের বৈরী আবহাওয়া মোকাবিলা করতে হয়েছে। জুন মাসে বীজতলা তৈরির সময় প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হয়নি। অনেক চাষি সেচ দিয়ে বীজতলা তৈরি করে। অনেক চাষি বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করে। শেষ পর্যন্ত তাদেরও সেচ দিয়েই বীজতলা করতে হয়। চাষ নাবি হয়। চাষিদের অভিযোগ, পটাশ ও ইউরিয়া সারের অভাব ছিল।  তার পরও প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে ধান চাষ করা হয়। ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ধাওড়া গ্রামের চাষি লাভলু মিয়া বলেন, এবার দেড় বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান বিনা-৭ চাষ করেছেন। বৃষ্টির অভাবে ফলন ভালো হয়নি। মঙ্গলবার শৈলকুপা হাটে প্রতি মণ ১ হাজার ৩২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। আর চরআউশিয়া গ্রামের শামীম হোসেন বলেন, হাইব্রিড ধানীগোল্ড ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।

মহেশপুর উপজেলার রাখালভোগা গ্রামের চাষি আবু হাসান জানান. তিনি আট বিঘাতে রোপা আমন চাষ করেছেন। কাটা শুরু করেছেন। ফলন ভালো হচ্ছে না। সারের অভাব ছিল। তাদের এলাকায় চিকনা ধান ১ হাজার ৩০০ টাকা মণ ও মোটা ১ হাজার ২০০ টাকা  মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঝিনাইদহ জেলা চালকল মালিক সমিতির সম্পাদক বিকাশ বিশ্বাস বলেন, ধান ওঠার শুরুতে দাম চড়া। ইতিমধ্যে মণপ্রতি ৫০ টাকা করে বেড়েছে। তিনি জানান, মোটা ধান ১ হাজার ২৫০ টাকা ও মাঝারি চিকন ধান ১ হাজার ৩৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। ধানের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব চালের ওপর পড়তে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ঝিনাইদহের উপপরিচালক মো. আজগর আলি বলেন, ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২১ মণ ফলন হচ্ছে। চাষিরা ধানের ভাল দাম পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন