পাকিস্তানের অনুপ্রেরণা ৯২’বিশ্বকাপ

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২১

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভের লড়াই শেষ হয়েছে তিনদিন আগেই। আজ প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামছে পাকিস্তান।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় মাঠে গড়াবে প্রথম সেমিফাইনাল। 

গ্রুপ পর্বে অনেক নাটকীয়তার পর আজ প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করতে চায় পাকিস্তান। কিউইদের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে ১৯৯২ বিশ্বকাপ আসরকেই অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে চায় বাবর আজমের দল।

ইমরান খানের বুদ্ধিদীপ্ত অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জিতেছিলো পাকিস্তান। সে আসরের মত আবারও সামনে একই চিত্র, এবারও সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি পাকিস্তান।

১৯৯২ আসরে কোন রকমে  সেমিফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান। টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে-পড়তে ভাগ্যের সহায়তায় কোনভাবে শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিলো উপমহাদেশের দলটি। 

ইনজামাম-উল-হকের দুর্দান্ত নৈপুন্যে ফাইনালে ওঠা পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ১৯৯২ আসরের শিরোপাও নিজেদের করে নিয়েছিলো। 

ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিপক্ষে ম্যাভ সামনে রেখে আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান কোচ ম্যাথু হেইডেন বলেছন, ‘এটি (১৯৯২ বিশ্বকাপ) সরাসরি প্রভাব ফেলছেনা। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে  মিডিয়ার কল্যানে  ক্রিকেট ভক্তদের একটি অংশ, খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ, আমরা সবাই এই মিশনের গুরুত্ব এবং তাৎপর্য বুঝতে পারি। এবং ‘৯২’ আসর পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য স্মরণীয় একটি দিন ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘সে বারের টুর্নামেন্টেও সেমির আগ পর্যন্ত পাকিস্তান দল ছিল অগোছালো, আহামরি কোন পারফরম্যান্স ছিলো না। বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে তারা, তারপর হঠাৎ করে ঘুড়ে দাঁড়ায় পাকিস্তান। তারা বিপজ্জনক এবং শক্তিশালী হয়ে উঠে। পাকিস্তানের জন্য সে বারের আসরটিও ছিল এবারের আসরের মতোই।’

হেইডেন আরও জানান, ‘মূলত একজন ভক্ত এবং অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার হিসাবে আমি এতটুকু বলতে পারি-পাকিস্তান ক্রিকেটের পেস বোলিং আক্রমণ এবং ব্যাটিং লাইন-আপে  আমাদের সত্যিই কিছু দেখার আছে।’

জয়ের অবস্থায় থেকেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারতে হয়েছিলো পাকিস্তানকে। পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছেও ১ রানে হারে তারা। পরপর দুই ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালের পথ কঠিন হয়ে পড়ে পাকদের। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে সেমির লড়াইয়ে ফিরে তারা। এরপর নেদারল্যান্ডসের কাছে প্রোটিয়াদের হারে পাকিস্তানের জন্য সেমিতে ওঠার বড় সুযোগ তৈরি হয়। 

বাংলাদেশের বিপক্ষে অনানুষ্ঠানিক কোয়ার্টার ফাইনালে পরিণত হওয়া ম্যাচটি ৫ উইকেটে জিতে  সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে পাকিস্তান।

হেইডেন বলেন, ‘যে কোন দিন যে কোন কিছু ঘটতে পারে। ঐ নির্দিষ্ট দিনেই নেদারল্যান্ডস হারিয়েছিলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এটি আমাদের জন্য এই টুর্নামেন্টে একটি উল্লেখযোগ্য মুহূর্ত ছিল এবং সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোটা আমাদের দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।’

তবে নিউজিল্যান্ড কেন  টুর্নামেন্টের সেরা দল  ইতোমধ্যেই তারা সেটা প্রমাণ করেছে জানিয়ে হেইডেন বলেন, ‘যদিও গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ডের কাছে ম্যাচ হেরেছিলো তারা। তবে সকল পজিশনে সামর্থ্যবান ক্রিকেটার রয়েছে তাদের। কেন উইলিয়ামসনের মতো একজন সত্যিকারের শান্ত এবং ভদ্রলোকের নেতৃত্বে ক্রিকেট খেলছে তারা।’ 

২০১৫ ওয়ানডে  বিশ্বকাপের পর ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বাদে আইসিসির প্রতিটি ইভেন্টের ফাইনাল খেলেছে নিউজিল্যান্ড। ২০১৫ এবং ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে  কিউইরা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ফাইনালে হেরেছে দুইবারই। ২০২১ সালে প্রথম টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও খেলেছে তারা, সেই ফাইনাল দিয়েই আইসিসি ট্রফি জয়ের খরা কাটিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ফাইনাল খেলে নিউজজিল্যান্ড, হেরে যায় অস্ট্রেলিয়ার। এখন ১৯৯২ বিশ্বকাপের ক্ষত মুছে ফেলার সুযোগও এসেছে তাদের সামনে।

আইসিসি টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রেকর্ড যদিও খুব একটা সুবিধার নয়। আইসিসির সব ইভেন্ট মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৮বার মাঠে নেমেছে কিউইরা, যার মধ্যে হারতে হয়েছে ১৭ বারই।

ইত্তেফাক/এসএস