খাদিজা তুল কোবরা
সবুর চাচা ভীষণ কৃপণ। এই তো এক সপ্তাহ হলো ঘরের ফ্যানটা নষ্ট হয়েছে। চাচি নতুন ফ্যানের কথা বলাতে চাচা হাতপাখা এনে চাচিকে দিয়ে বলল, ‘এই দেখো বউ, তুমি ফ্যান আনতে বলেছ, আমি পাখা নিয়ে আসছি। ফ্যান মানে তো পাখা ই। ওই হলোই। একটু কষ্ট করো বুঝছ, এত সুখে সংসার করলে চলে? গরমকে কোনো ব্যাপারই মনে করবা না। কত গরম গেছে শরীরের ওপর দিয়ে, এখনো তো ঠিকমতো গরম পড়েইনি। তাতেই এত ফ্যান লাগবে কেন?’
‘তবুও তো ফ্যানটা দরকার,’ বললেন চাচি।
‘তো খুব বেশি দরকার হলে যাও না বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে এসো। পারলে ফ্যান না এনে এসিই নিয়ে এসো। সেটা তোমার জন্যই ভালো হবে।’
এসব শুনে চাচির বুঝতে বাকি রইল না যে, এ হারকিপ্টেকে কোনো কথা বলে কোনো লাভ হবে না।
এ সংসারের বেশিরভাগ জিনিসই তার বাপের বাড়ি থেকে আনা। গরমে ঠাণ্ডা পানি খাওয়ার জন্য ফ্রিজ কিনতে চাইলেও তার স্বামী বলেছিল,‘এই গরমে টিউবয়েলের ঠাণ্ডা পানিই হচ্ছে আল্লাহর নেয়ামত, ফ্রিজের পানির থেকেও উত্তম। ওসব ফ্রিজ-ট্রিজ কিনে আমি টাকা নষ্ট করতে পারব না।’
তখন ফ্রিজটাও চাচিকে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসতে হয়েছিল।
এবার যা গরম পড়েছে। তাছাড়া পাশের বাড়ির ভাবিরা গতবার এসি কিনেছে। সেটা নিয়ে যা ভাব তাদের। আমাদেরও একটা এসি না কিনলে ইজ্জত আর থাকে না ভেবে চাচি বাবার বাড়ি থেকে আসার সময় তার বাবার কাছে টাকা নিয়ে এলো নিজে দেখেশুনে ভালো এসি কিনবে বলে। কিন্তু সবুর চাচা বলল, ‘তুমি মেয়ে মানুষ তুমি ভালোমন্দের কী বুঝবা, তার থেকে বরং আমাকেই টাকাটা দাও আমি সুলভ মূল্যে তোমাকে এসি এনে দিব।’ চাচি ভাবল, ঠিকই তো, আমি আর ভালো খারাপ কী বুঝব। তাই টাকা চাচাকে দিয়ে বলল, ‘উল্টা-পাল্টা কিছু করো না যেন, আর পারলে তোমার অফিসের কাউকে সাথে নিয়ো, যে এসি ভালো বোঝে।’
চাচা টাকা হাতে নিয়ে মহাখুশি হয়ে বের হয়ে গেল।
দুই ঘণ্টা পর ফিরে এসো যখন কলিং বেল চাপল, চাচি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে বলল, ‘একি তুমি একা? এসি কই? নাকি কিনতে পারনি? কথা বলো না কেন? এসি কই? আনোনি এসি?’
চাচা বলল, ‘এনেছি তো, খুব ভালো এসি। কম দামেই পেয়েছি।’
‘কই? দেখছি না তো। হাতে শপিং ব্যাগে কী?’ জানতে চাইল চাচি।
—এখানেই তো এসি আছে।
—কী আবল-তাবল বকছ? এই ব্যাগে এসি থাকবে কিভাবে?
এরপর যা ঘটল।
চাচিকে অবাক করে দিয়ে সবুর চাচা হাসতে হাসতে ব্যাগ থেকে ‘আইস কুল’ পাউডার বের করে দিয়ে বলল, ‘এই নাও তোমার এসি। সবচেয়ে কম দামে এর থেকে ভালো কোনো এসি পাবা না।’
চাচী রেগে গিয়ে বলল, ‘তোমার কি মাথা ঠিক আছে?’
পাউডার এসি হয় কিভাবে।
চাচা সেই একখান হাসি দিয়ে বলল, ‘আমি তো সরাসরি তোমার শরীরেই এসি লাগানোর ব্যবস্থা করে দিলাম। কেন টিভিতে ‘আইস কুল’ পাউডারের অ্যাড দেখনি—গরমকে ছুটিতে পাঠান, শরীরে এসি লাগান।’
রাজারহাট, কুড়িগ্রাম।
