বংশাই ও লৌহজং নদী ভাঙনে হুমকিতে মির্জাপুরের নানা স্থাপনা

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২, ১০:৩১

বংশাই ও লৌহজং নদীর পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, হাট বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে গাইড বাঁধ।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে।

ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো.আব্দুর রউফ জানান, প্রতি বছরই এই ইউনিয়নে বংশাই নদীতে ভাঙন শুরু হয়। এ বছর ভাঙনের মাত্রা তীব্র আকার ধারণ করছে। বংশাই নদীর ভাঙনে ফতেপুর বাজার সংলগ্ন পাকা রাস্তা বিলিন হয়ে মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে বাসাইল উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে চলছে।

হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদ হোসেন এবং হিলড়া আদাবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম মিয়া বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙনের ফলে এই দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫-১৬শ শিক্ষার্থী নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন। নদী ভাঙন থেকে থেকে রক্ষার জন্য শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধনও পালন করেছে। তারপরও প্রশাসেনর টনক নরেনি।

এদিকে একই অবস্থা লৌহজং নদীতে। জামুর্কি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডি এ মতিন জানান, লৌহজং নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা নদী ভাঙনে বহু পরিবার দিশেহারা হয়ে পরেছেন। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ব্রিজ, কালভার্ট, রাস্তা-ঘাট, হাট বাজারসহ ফসলি জমি।

একাধিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অভিযোগ , নদী ভাঙনে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হলেও প্রশাসন থেকে তাদের কোনো সহায়তা দেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিভিন্ন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। বরাদ্দ আরও বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার  (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, লৌহজং ও বংশাই নদীতে ভাঙন বিষয়ে সংসদ সদস্য এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খান আহমেদ শুভ জানান, ফতেপুর এলাকায় সড়ক রক্ষার জন্য এলজিইডিসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন,পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরএজে