চীনের অর্থনীতি নিয়ে শি কি নতুন নির্দেশনা দেবেন?

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২২, ২১:৫২

চীনের শাসক দল কমিউনিস্ট পার্টির ২০তম কংগ্রেস নিয়ে দেশটির ভেতরে বাইরে ব্যাপক আলোচনা ও মূল্যায়ন চলছে। চীনের সরকারি মূল্যায়ন অনুসারে শি জিনপিংয়ের তৃতীয় দফা প্রেসিডেন্টের মেয়াদে দেশটি বিশ্ব নেতৃত্ব অর্জনের পথে নতুন পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, বৈশ্বিক নেতৃত্ব- সর্বক্ষেত্রে অব্যাহত সংস্কারের পথ ধরে বেইজিং বিশ্বের শীর্ষ নেতৃত্বের দেশ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়ার উচ্চাকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেছে।

চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে চীনের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১ শতাংশ। কিন্তু এই প্রান্তিক শেষে দেখা গেছে, প্রত্যাশার অর্ধেকেরও কম, অর্থাৎ মাত্র দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে দেশটির অর্থনীতিতে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ টমি উ বিবিসিকে বলেছেন, মহামারি শুরুর পর এটি চীনা অর্থনীতির সবচেয়ে বাজে নৈপুণ্য। বিশেষ করে সাংহাইতে বিধিনিষেধের কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাপক বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো চীন থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে। পশ্চিমা প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চীনের জন্য পশ্চিমের পণ্য বাজারও সঙ্কুচিত হচ্ছে। সর্বোপরি চীনের প্রভাব বিস্তারের যে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষেত্র রয়েছে তাতে হাত দিতে শুরু করেছে পশ্চিমারা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং

এর সম্মিলিত প্রভাবে চীনা অর্থনীতির বিকাশ কমে আসছে। ২০৩০ সালে বিশ্বের ১ নম্বর অর্থনীতি হওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী ছিল চীনের ব্যাপারে, তা ২০৩৫ সালেও সম্ভব হবে কি না এমন সংশয় প্রকাশ পাচ্ছে। পশ্চিমা প্রযুক্তিগত বিধিনিষেধের কারণে মানসম্মত সেমিকন্ডাক্টর ও চিপ বানাতে না পারায় চীনা কৌশলগত সমরাস্ত্র ও আইটি সামগ্রী বাজার হারাচ্ছে।

সিপিসির ২০তম জাতীয় কংগ্রেসে আগামী পাঁচ বছর ও তার পরেও একটি আধুনিক সমাজতান্ত্রিক চীন গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন শি জিন পিং। শি বলেছেন, এবারের কংগ্রেসের থিম ঠিক হয়েছে চীনা বৈশিষ্ট্যের সাথে সমাজতন্ত্রের ব্যানার সমুন্নত রাখা, নতুন যুগের জন্য চীনা বৈশিষ্ট্যের সাথে সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারার পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা, পার্টির প্রতিষ্ঠাকালের চেতনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, আত্মবিশ্বাসী থাকা এবং শক্তি অর্জন করা এবং মৌলিক নীতিমালা সমুন্নত রাখা। 

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

এদিকে শি চীনা আধুনিকীকরণের বৈশিষ্ট্যের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, এতে এমন উপাদান রয়েছে যা সব দেশের আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ার জন্য সাধারণ মডেল হবে, তবে এটি চীনা প্রেক্ষাপটে অনন্য বৈশিষ্ট্যযুক্ত হবে। চীনা আধুনিকীকরণ হবে বিশাল জনসংখ্যার আধুনিকীকরণ, সবার জন্য অভিন্ন সমৃদ্ধি, বস্তুগত ও সাংস্কৃতিক- নৈতিক অগ্রগতি, মানবতা ও প্রকৃতির মধ্যে সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ উন্নয়ন।

তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, চীনের পক্ষে দ্রুত অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না। কারণ, সরকার করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেই আবার কঠোর শূন্য কোভিড নিয়ম চালু করে দেবে। এতে ব্যবসা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে।

শূন্য কোভিড নীতির সমালোচনাও আছে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বলেছে, এই নীতি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন; তা না হলে চীনের এ কঠোর নীতি সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি