মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মেলায় চলে জামাইদের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা, লুকিয়ে অংশনেন শ্বশুরাও

নবান্ন উৎসবে কালাইয়ে মাছের মেলা

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২২, ১২:৩৭

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে মাছের মেলা বসেছে। অগ্রহায়ণ মাসে উৎসব উপলক্ষে উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে প্রায় অর্ধবর্ষের এই মাছের মেলা বসে।

তবে মেলা ঘিরে এলাকায প্রচলিত এক ধরনের রীতি রয়েছে। সেটি হচ্ছে মেয়ের জামাইদের বড় মাছ কেনার প্রতিযোগিতা। কোন জামাই কত বড় মাছ কিনলেন, সেটাই আসল বিষয়। প্রতিযোগিতায় নীরব অংশগ্রহণ করে শ্বশুরেরা।

মেলায় অংশ নেন উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর, আহম্মোবাদ ইউনিয়ন ও কালাই পৌরসভার মহল্লা এবং গ্রামবাসী।

ছবি: ইত্তেফাক

এই মেলা বা উৎসবকে ঘিরে প্রতিটি বাড়িতেই মেয়ে ও জামাইসহ স্বজনদের দাওয়াত দেওয়া হয়। দিনব্যাপী চলে মাছ কেনাবেচার উৎসব। মেলায় মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যের পসরা বসে। এই দিনটির জন্য পুরো বছর অপেক্ষায় থাকেন কালাইবাসী।

মেলায় মাছ কিনতে আসা জাহিদুল ইসলাম নামে এক জালাই বলেন, অন্য বছরের চাইতে এবার মাছের দাম একটু বেশী। তবে যাই হউক না কেন এই মেলা থেকে ১২ কেজি ওজনের একটি কাতলা মাছ ১০ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে শশুর বাড়ি যাচ্ছি।

পাশের বাইগুনি গ্রামের বাসিন্দা মুনীশ চৌধুরী বলেন, প্রায় অর্ধবর্ষের ঐতিহ্যবাহী মেলাটি যেমন মাছের জন্য বিখ্যাত, তেমনি এই এলাকায় ধান-আলুতেও ভরপুর থাকে। এ কারণে আশপাশের লোকজন মেলায় ছুটে আসে।

মেলায় মাছ বিক্রেতা আব্দুল লতিফ বলেন, মেলায় ছোট-বড় মিলে অর্ধশতাধিক মাছের দোকান বসেছে। মাছের মেলাতে বড় পুকুর, দিঘি ও নদী থেকে নানান জাতের বড় বড় মাছ সংগ্রহ করা হয়েছে। কাতলা, রুই, মৃগেল, ব্রিগেড, সিলভার ৮শ’ থেকে ৯শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর মাঝারি আকারের মাছ ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা বেশি। তাই মাছও বিক্রি হচ্ছে বেশি। দামও ছিল স্বাভাবিক।

ছবি: ইত্তেফাক

মেলা সম্পর্কে কালাই পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তোফিকুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, এই মাছের মেলাটি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যের ধারক। মেলায় বেচাকেনা যতই হোক না কেন, এ মেলা আমাদের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে বহন করছে, এটাই সবচেয়ে বড় কথা।

কালাই উপজেলা মৎস্য সহকারী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার আলী বলেন, এই মেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আর এই মেলাকে লক্ষ্যে করে স্থানীয় বড় মাছ ব্যবসায়ীরা ও মাছ চাষিরা বিভিন্ন এলাকা থেকে সপ্তাহখানেক ধরে বড় বড় মাছ সংগ্রহ করে থাকেন। মেলায় কেউ যেনো বিষাযুক্ত মাছ বিক্রি করতে না পারে সেদিকে আমাদের কঠোর নজরদারি রয়েছে।

ইত্তেফাক/আরএজে