সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

৩০ কোটি টাকার সার গায়েব, বরখাস্ত কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের চেষ্টা

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২২, ১৮:২৭

জামালপুরের সরিষাবাড়িতে যমুনা সার কারখানার ২০ হাজার মেট্রিক টন সার গায়েবের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা। ঘটনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও তাদের আবার পুর্নবহালচেষ্টার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

কোম্পানি সূত্র জানায়, কারখানায় উৎপাদিত সারের গুদামে ইউরিয়া গড়মিলের অভিযোগ পায় কর্তপক্ষ। এর প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ রাসায়রিক শিল্প সংস্থার (বিসিআইসি) কর্পোরাল ডিরেক্টর সাকিব হোসেনকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) সিদ্দিকুর রহমানকে সদস্য সচিব করে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে গুদামে রক্ষিত সারের ঘাটতির প্রমাণ মেলে।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে বিসিআইসি'র চেয়ারম্যান এমদাদুল হক গত বছরের ১৮ নভেম্বর কারখানার তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক খোকন চন্দ্র দাস (বাণিজ্যিক), বিক্রয় প্রধান (বাণিজ্যিক বিভাগের ব্যবস্থাপক) ওয়ায়েসুর রহমান ও ব্যাগিং ইনচার্জ (উপ-প্রধান রসায়নবিদ) নজরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

সেইসঙ্গে তাদের চাকরি থেকে কেনো স্থায়ী বরখাস্ত ও শাস্তির আওতায় আনা হবে না, এই মর্মে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। এছাড়াও কারখানার আরও ৬ জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়।

সাময়িক বরখাস্তকৃত ৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে ঘাটতিসহ দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচারণ, অদক্ষতা, চুরি, আত্মসাৎ, তহবিল তছরুপ ও প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত উল্লেখ করা হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ফৌজদারি মামলা হয়নি।

ঘটনার ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তদন্তের পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়নি। অভিযোগ ওঠেছে, বিসিআইসি'র সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে খোকন চন্দ্র দাস, ওয়ায়েসুর রহমান ও নজরুল ইসলামকে পুর্নবহালের চেষ্টা চলছে। কারখানায় এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দেয়।

এ ব্যাপারে কারখানার তৎকালীন মহাব্যবস্থাপক খোকন চন্দ্র দাস (বরখান্তকৃত) জানান, তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে তাদের ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফাইনাল প্রতিবেদন জমা হওয়ার পরই চাকরির ভবিষ্যৎ বলা যাবে।

কারখানার ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিসিঅইসির তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ৩ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা হতে পারে। এর আগ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

ইত্তেফাক/আই/এসকে