রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপি-আওয়ামী লীগ-পুলিশ ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ৩০

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০২২, ২০:৩৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় আওয়ামী লীগ-পুলিশ-বিএনপির ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ৬ পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। 

সংঘর্ষে সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আহত হন। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (কামারখন্দ সার্কেল) আদনান মুস্তাফিজ ও কামারখন্দ থানার ওসি নুরন্নবী প্রধানসহ তাদের ৬ সদস্য আহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর জনসভা সফল করতে কামারখন্দে দলীয় কার্যালয়ে আমরা আলোচনা সভা করি। সেখানে কেন্দ্রীয় নেত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, জেলা বিএনপির সভানেত্রী রুমানা মাহমুদসহ বহু নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে আমরা রেলওয়ে স্টেশনে এলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় তারা সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপির সভাপতি রুমানা মাহমুদের গাড়ি ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। আমরা প্রতিরোধ করতে গেলে পুলিশ আমাদের ওপর ছররা গুলি চালায়। এতে রুমানা মাহমুদ ও আমিসহ অন্তত ২৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছি।

ছবি: প্রতিনিধি

ঘটনাটি সম্পর্কে কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শেখ বলেন, বিএনপির অভিযোগ সঠিক নয়। বরং তাদের মধ্যেই গ্রুপিং রয়েছে। দুই গ্রুপে দ্বন্দ্বের এক পর্যায়ে স্টেশন এলাকায় আওয়ামী লীগের ৬/৭ জন নেতা-কর্মীর ওপর তারা হামলা চালিয়ে আহত করে। আহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজা ও হযরত আলীর অবস্থা আশংকাজনক বলে তিনি জানান। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। 

কামারখন্দ থানার ওসি নুরন্নবী প্রধান বলেন, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে যায়। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা হামলা চালায়। বাধ্য হয়ে ছররা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন বলেও জানান।

সিরাজগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (কামারখন্দ সার্কেল) আদনান মুস্তাফিজ বলেন, বিএনপি তাদের প্রোগ্রাম শেষ করে জামতৈল স্টেশন এলাকায় দোকান-পাট ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর শুরু করে। বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্রও ছিল। তাদের হামলায় আমি ও থানার ওসিসহ ৬ পুলিশ সদস্য আহত হই। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/পিও