বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

'ফের হামলা হতে পারে ইমরান খানের ওপর'

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ১০:০৫

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের ওপর আবারও হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমির ফারুক। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) ব্যবসায়ীদের করা আপিলের শুনানিকালে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডেইলি টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
   
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান এ মাসের শুরুতে হামলার শিকার হন। আগাম নির্বাচনের দাবিতে সেদিন তিনি দেশটির ওয়াজিরাবাদ শহরে লংমার্চ করছিলেন। হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়।

হামলায় একজন পিটিআই সমর্থক নিহত হয়েছেন। দলটির কয়েকজন নেতা–কর্মীও আহত হন। এরপরই লংমার্চ স্থগিত করা হয়। পরে ইমরান অভিযোগ করেন, হামলায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল ফয়সাল নাসির জড়িত।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ

তবে ইমরান খান তার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

একটি আদালত শুক্রবার ইসলামাবাদে পিটিআই বিক্ষোভ চলাকালীন রাস্তা অবরোধের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের দায়ের করা আপিলের শুনানি করছিল। এ সময় সেখানে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেশ করে পুলিশ। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান আবার লংমার্চে অংশ নিলে তার ওপর আরেকটি হামলা হতে পারে।

বিচারপতি আমির ফারুক পিটিআইকে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ইসলামাবাদে সভা করার জন্য আবার আবেদন করতে বলেছেন

বিচারপতি আমির ফারুক পিটিআইকে এমন পরিস্থিতি এড়াতে ইসলামাবাদে সভা করার জন্য আবার আবেদন করতে বলেছেন। একই সঙ্গে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এদিকে হামলার পর ১০ নভেম্বর ফের শুরু হয় লংমার্চ। তবে সরাসরি অংশ নিতে পারেননি ইমরান। বর্তমানে তিনি লাহোরে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই সমর্থকদের উদ্দেশে ভার্চ্যুয়ালি ভাষণ দিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি সপ্তাহে লংমার্চে উপস্থিত থাকবেন ইমরান।

হামলার পর ১০ নভেম্বর ফের শুরু হয় লংমার্চ

গত এপ্রিলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এক অনাস্থা ভোটের মধ্য দিয়ে পতন হয় ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের। এরপর থেকে আগাম নির্বাচনের দাবিতে সারাদেশে সভা ও সমাবেশ করে আসছেন তিনি।

 

ইত্তেফাক/ডিএস