সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে ছাত্রদল নেতা নিহত, ৬ পুলিশ আহত

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২, ২২:০৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নয়ন মিয়া (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীর ইটপাটকেটে ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।  

শনিবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা সদরের মোল্লা বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। গুলিতে নিহত নয়ন মিয়া উপজেলার চরশিবপুর গ্রামের রহমত উল্লাহর ছেলে। তিনি উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি।

উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির মহাসমাবেশকে সফল করতে শনিবার বিকেলে সাড়ে তিনটার সময় বাঞ্ছারামপুরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপজেলা সদরে প্রচারপত্র বিলি করেন।

প্রচারপত্র বিলি শেষে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেতা ভিপি সায়েদুজ্জামান কামালের নেতৃত্বে উপজেলা সদরের মোল্লা বাড়ি থেকে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলা সদরের বাজার, বাঞ্ছারামপুর থানা ও উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘুরে পুনরায় মোল্লা বাড়ির মসজিদের সামনে গিয়ে জড়ো হয়। 

সেখানে বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলমের নেতৃত্বে পুলিশ জড়ো হন। পুলিশ সে সময় সায়েদুজ্জামানকে আটক করতে যায়। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি ও পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও ছোঁড়ে। এ সময় নয়ন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
  
এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির দুই কর্মী রফিকুল ইসলাম (৪২) ও সাইদুর রহমানকে (২৫) গ্রেফতার করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয় বলে জানান পুলিশ।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম (৪১), পরিদর্শক (তদন্ত) তরুণ কান্তি দে (৩২), উপ-পরিদর্শক আফজাল হোসেন (৩০) বিকিরণ চাকমা (৩২), কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম (৩৩) বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস (২৬)।

বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম বলেন, বিকেলে বিএনপির একশ থেকে দেড়শ নেতা-কর্মী আকস্মিক মিছিল নিয়ে থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। সেখানে থাকা টহল দলের দুই কনস্টেবলের কাছ থেকে তারা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় কনস্টেবল এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। 

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় আমিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তাদের (বিএনপির) এক কর্মীও আহত হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক ফোজায়েল চৌধুরী বলেন, লিফলেট বিতরণকালে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। পুলিশের গুলিতে ছাত্রদল সহ-সভাপতি নয়ন মিয়া নিহত হয়েছে।
 
বাঞ্ছারামপুর থানার ওসি নূরে আলম জানান, বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে থানায় ইটপাটকেল ছুঁড়লে পুলিশ আত্মরক্ষায় গুলি চালায়। থানায় হামলার ঘটনায় ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
 
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা মো. শাহীন নয়নের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইত্তেফাক/পিও