রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আগামী মাস থেকে বিদ্যুৎ জ্বালানির এত সংকট থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৩২

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা প্রত্যেক ঘরে বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হয়েছি। এখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল কিনতে ও গ্যাস আনতে অসুবিধা হচ্ছে। শুধু আমাদের দেশ নয়, ইংল্যান্ড, আমেরিকা, জার্মানিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশও জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে। তারাও হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে আমাদেরও কিছু দিনের জন্য কষ্ট পোহাতে হয়েছে। ইনশাল্লাহ হয়তো আগামী মাস থেকে এত কষ্ট আর থাকবে না। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির জন্য জনগণকে আর বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।’ আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে গতকাল শনিবার সকালে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় সূচনা বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারপরও তেল, পানি এবং জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী ও মিতব্যয়ী হতে হবে। কারণ সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার যে প্রভাব তার থেকে আমরা মুক্ত নই। কারো এক ইঞ্চি জমিও যেন খালি না থাকে। যে যা পারেন উৎপাদন করেন। নিজের জমিতে ফসল ফলান। কেননা সারা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের নিজেদের খাদ্যের সংস্থান নিজেরা করতে পারলে ঐ দুর্ভিক্ষের আঁচ বাংলাদেশে লাগবে না। এটা হলো বাস্তবতা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছি। আমাদের যা প্রয়োজন তার থেকে বেশি উৎপাদন করছি। তারপরও আমরা আপৎকালের জন খাদ্য সব সময় মজুত রাখি, যেন আমার দেশের মানুষের কোনো কষ্ট না হয়। মানুষকে বিনা মূল্যে এবং কম মূল্যে খাদ্য সরবরাহ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বেশি দাম দিয়ে সব জিনিস কিনে নিয়ে এসে কম দামে দিচ্ছি, যাতে কোনো মানুষ খাদ্যে কষ্ট না পায়। টিসিবির কার্ডের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, চিনি ভর্তুকিতে দিচ্ছি। ১ কোটি মানুষ এটা পাচ্ছে। প্রায় ৫০ লাখ মানুষকে আমরা ১৫ টাকায় দিচ্ছি আর ৫০ লাখ পরিবার পাচ্ছে বিনা পয়সায়। যারা বয়োবৃদ্ধ তাদেরকে দিচ্ছি।’

গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও আমির হোসেন আমু

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা গৃহহীন-ভূমিহীন তাদের ঘর করে দিচ্ছি। যাদের ঠিকানা ছিল না, এ ধরনের যত মানুষ পাচ্ছি আমরা খুঁজে খুঁজে বের করে বিনা পয়সায় ঘর দিচ্ছি। কিছু দিন আগে বন্যা হয়ে গেল। নদীভাঙনে যারা ভূমিহীন আমরা তাদেরও ঘর করে দেব।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। আমরা নিজেদের ভাগ্য গড়তে আসিনি। গড়ছি বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য। বিনা পয়সায় বই দিচ্ছি। বৃত্তি-উপবৃত্তি, মানুষকে খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তা দিচ্ছি। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে ৩০ প্রকার ওষুধ বিনা পয়সায় দেওয়া হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কবে কে করেছে বাংলাদেশের মানুষের জন্য এত কাজ? এতবার তো ক্ষমতায় ছিল সবাই। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া ছিল। মানুষের কল্যাণে তারা তো কখনো করেনি! করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগই করে।’

গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ সারা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। তবে চোখে দেখে না আমাদের দেশের কিছু মানুষ। তাদের কিছুই ভালো লাগে না। এই গণতান্ত্রিক সরকার তাদের ভালো লাগবে না। অগণতান্ত্রিক কিছু হলে তাদের মূল্যটা বাড়ে। এটাই তারা ভাবে। বাংলাদেশে সেই খেলাই খেলতে চায় তারা। বারবার তো সেই খেলা চলেছে দীর্ঘ দিন।’ তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনের পর একটানা গণতান্ত্রিক ধারা আছে বলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং বিশ্বে আবার সেই মর্যাদা পেয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের নাম শুনলে মনে করতে দুর্ভিক্ষ-ঝড়-দরিদ্র। এভাবেই দেখত। এখন তো আর সেই ছোট চোখে আর বাংলাদেশকে দেখতে পারে না! কারণ আমরা বিজয়ী জাতি। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করেছি। বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করেই চলব আমরা। সেটাই করছি।’ বিএনপির উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, তারা নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে, কিন্তু বাংলাদেশের ২০০৮-এর নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এই একটানা ২০২২ এদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই কিন্তু আজকে বাংলাদেশের উন্নতিটা হয়েছে। নইলে এত উন্নতি হতো না। তার আগে ‘প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার’ এদেশের মানুষের ছিল না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা আমরা শুরু করি। আজকে নির্বাচনে যতটুকু স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সৃষ্টি হয়েছে, সেটা কিন্তু আমাদের (আওয়ামী লীগ) আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়া, তারেক রহমান অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত হলেও এখন তারাই রিজার্ভ নিয়ে কথা বলে। দেশে এখনো পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ সরকারের হাতে আছে। যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে চার থেকে সাড়ে চার গুণ।’ দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যে প্রথম টানেল কর্ণফুলীতে তৈরি হচ্ছে, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন প্রজেক্টের ফলে অনেক কর্মসংস্থান বাড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পদ্মা সেতু করার পর অনেকে বলল, এত টাকা দিয়ে সেতু বানিয়ে কী লাভ হলো? এখন যে ইলিশ মাছটা সকাল বেলা রওনা হয়ে দুই ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা এসে পৌঁছাচ্ছে। তাজা তাজা খাচ্ছে, এটা খেত কোথা থেকে? এটা তো বাস্তব কথা। আর মানুষের কর্মসংস্থানও হয়েছে।’ রিজার্ভ নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাকালে বিদেশ থেকে পর্যাপ্ত রেমিট্যান্স এসেছে। বাংলাদেশ কখনো লোন ডিফল্টার হয়নি।’

ইত্তেফাক/ইআ