শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ফাভেলা ‘দোজখ’ থেকে বিশ্বকাপে

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৫২

আদ্রিয়ানোর কথা মনে আছে নিশ্চয়। ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলেছেন ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপ। দেশের হয়ে জিতেছেন ২০০৪ সালের কোপা আমেরিকা ও ২০০৫ সালের ফিফা কনফেডারেশনস কাপ। অমিয় প্রতিভার অধিকারী আদ্রিয়ানোর মধ্যে অনেকেই দেখছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলারদের ছায়া। যদিও ইন্টার মিলান, এএস রোমার মতো ক্লাবে আদ্রিয়ানো মদ, জুয়া, পরনারী, নৈশক্লাবের পাল্লায় পড়ে অকালেই হারিয়ে গেছেন। তবে অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ার আগে সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত অমিয় প্রতিভার ঝলকানিটা ঠিকই দেখিয়েছিলেন। সেই আদ্রিয়ানোর জন্ম হয়েছিল রিও ডি জেনিরোর নিকটবর্তী ‘ফাভেলা’য়। ব্রাজিলের ফাভেলাগুলো গিঞ্জি বস্তি। নিম্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের মাথাগোঁজার ঠাঁই। যেখানে হেন কোনো অপরাধ নেই, যা সংঘটিত হয় না। এক কথায়, ব্রাজিলের ফাভেলাগুলো বড়দের জন্য অপরাধ রাজ্য, আর ছোটদের জন্য ‘দোজখখানা।’

সেই ‘দোজখ’ থেকে উঠে আদ্রিয়ানো নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন বিশ্বদরবারে। ৪০ বছর বয়সি আদ্রিয়ানোর দেখানো পথ ধরে সেই ফাভেলা ‘দোজখ’ থেকে বিশ্বকাপে নাম লেখালেন আরো এক ফুটবলার। নাম তার অ্যান্তনি মাথেয়াস দস সান্তোস। আদর করে সবাই তাকে অ্যান্থনি নামেই ডাকে। ঠিকই ধরেছেন, ব্রাজিলের কাতার বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেওয়া অ্যান্তনির কথাই বলা হচ্ছে।

২২ বছর বয়সি অ্যান্তনিও আদ্রিয়ানোর মতোই অমিয় প্রতিভাবান। তবে আদ্রিয়ানো ছিলেন ফরোয়ার্ড। অ্যান্তনি উইঙ্গার। প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে অ্যান্তনি যোগ দিয়েছেন ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন ১১টি ম্যাচ। যাতে গোলও করেছেন দুটি। ব্রাজিল কোচ তিতে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিশ্বকাপ দলেও রেখেছে।

প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপ দলে ডাক পেয়ে অভিভূত অ্যান্তনি। নিজেই জানিয়েছেন, ছোটবেলার কষ্টের জীবনের কথা, ‘আমি নরকে জন্মেছি। না, মজা করছি না। সাও পাওলোর অসাস্কো শহরের ‘ফাভেলা’য় আমার জন্ম। ফাভেলাকে সবাই ছোট নরক বলে ডাকে। আমাদের বাড়ি থেকে ১৫ মিনিটের দূরত্বেই মাদকের আখড়া।

সব সময়ই মাদকের কেনাবেচা হয়। আমাদের জানালা খুললেই মাদকের গন্ধ আসে। বন্ধুক, গোলাগুলি—এসব সেখানকার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এই অবস্থার মধ্যেই আমি আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় ফুটবল খেলেছি।’ হ্যাঁ, নরক নামে পরিচিত ফাভেলার ধুলোবালির সরু রাস্তায় ফুটবল খেলেই অ্যান্তনি আজ বিশ্বকাপ মঞ্চে। কঠিন পথ পেরিয়ে জীবনযুদ্ধে এরই মধ্যে জয়ী হওয়া অ্যান্তনির প্রত্যাশা কাতার বিশ্বকাপ জয়ের।

ইত্তেফাক/ইআ