সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

ইত্তেফাকে খবর প্রকাশের পর এমপির ঘটনাস্থল পরিদর্শন

মির্জাপুরে বংশাই ও লৌহজংয়ে ব্যাপক ভাঙন

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৪৯

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে যমুনা ও ধলেশ্বরী শাখা নদী বংশাই-লৌহজংয়ে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তীব্র নদী ভাঙনে ফতেপুর বাজার সংলগ্ন পাকা রাস্তা বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার সঙ্গে বাসাইল উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

এদিকে গত ১৩ নভেম্বর দৈনিক ইত্তেফাকে মির্জাপুরে বংশাই-লৌহজং নদীতে ব্যাপক ভাঙন শীর্ষক একটি  প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খান আহমেদ শুভ এমপি ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) তিনি বংশাই নদীর ফতেপুর, পুষ্টকামুরী ও বাওয়ারকুমারজানি এলাকা এবং লৌহজং নদীর চুকুরিয়া এলাকা পরিদর্শন করেন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

শনিবার (১৯ নভেম্বর) মির্জাপুর উপজেলার বংশাই ও লৌহজং নদীর ভাঙন কবরিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,  ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েক হাজার পরিবার এখন প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারা অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন দারে দারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

ফতেপুর এলাকার বাসিন্দা তসলিম খানসহ জানান, এই ইউনিয়নে বংশাই নদীতে ভাঙন শুরু হয়। এ বছর ভাঙনের মাত্রা ব্যাপক আকার ধারণ করছে।

সাবেক সেনা সদস্য তাহের উদ্দিন এবং কৃষক মনির হোসেন জানান, বংশাই নদীর ভাঙনের ফলে ফতেপুর, থলপাড়া, বৈল্যানপুর, হিলড়া আদাবাড়ি বাজার, গোড়াইল, গাড়াইল, পুষ্টকামুরী পুর্বপাড়া, বাওয়ার কুমারজানি, ত্রিমোহন, বান্দরমারা, যুগিরকোপা, রশিদ দেওহাটা চাকলেশ্বরসহ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে, একই অবস্থা দেখা দিয়েছে লৌহজং নদীতে।

পৌরসভার মহিলা কাউন্সিল রওশন আরা বেগম জানান, লৌহজং নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে মাঝালিয়া, গুনটিয়া, চুকুরিয়া, বরাটি, পুষ্টকামুরী, দেওহাটা, কোর্ট বহুরিয়া, বহুরিয়া, কামারপাড়া, নাগরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা নদী ভাঙনে বহু পরিবার দিশেহারা হয়ে পরেছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিযোগ, নদী ভাঙনে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রশাসন থেকে তারা কোনো সহায়তা পাননি।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন কবরিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সাংসদ ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড টাঙ্গাইলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বংশাই ও লৌহজং নদীতে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ ও ব্লক ফেলার জন্য বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র সালমা আক্তার শিমুল বলেন, নদী ভাঙনে গাড়াইল, পুষ্টকামুরী উত্তরপাড়া, বাওয়ার কুমারজানিসহ বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়ত তিনি স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংসদ সদস্যকে জানিয়েছেন। বরাদ্ধ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সহায়তা দেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/আরএজে