বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মানুষ ও প্রাণীর ভালোবাসার মেলবন্ধন ‘পুচি ফ্যামিলি’

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২২, ১৯:১১

তাপসী দাস, একজন প্রাণীপ্রেমী ব্যক্তি। গৃহপালিত পশুপাখিদের প্রতি তার আগ্রহ অনেক বেশি। দৈনন্দিন জীবনের বেশিরভাগ সময়ই বাড়িতে পোষা বিড়ালদের নিয়েই কাটে। তার এই পশু-পাখির প্রতি প্রবল আগ্রহ এবং ভালোবাসাকে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন অন্যদের মাঝেও। আর সেই ভাবনা থেকেই ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর একটি ফেসবুক পেইজ তৈরি করেন তিনি। যার নাম রাখেন ‘পুচি ফ্যামিলি’।

করোনাকালে যখন সকলেই ছিলেন ঘরবন্দী। তখন কিছু বিড়াল ও একটি পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের কর্মকাণ্ডগুলো দেখা যেতো ‘পুচি ফ্যামিলি’ ফেসবুক পেইজে। মানুষ ও প্রাণীর একসাথে কাটানো মুহুর্তগুলো ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে সকলের সঙ্গে শেয়ার করাই ছিলো তাপসীর মূল উদ্দেশ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক  জনপ্রিয়তা লাভ করে ‘পুচি ফ্যামিলি’।

তাপসী জানান, পশু-পাখির প্রতি তার ভালোবাসাটা ছিল ছোটবেলা থেকেই। বিড়াল তার সবচেয়ে প্রিয় এবং আদুরে প্রাণী। ছোট থেকেই তিনি বিড়াল পছন্দ করতেন। ওদের সাথেই কাটতো অধিকাংশ সময়। বর্তমানে তার বাড়িতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বিড়াল। তাপসী, নিজের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতোই মনে করেন এই বিড়ালগুলোকে। বিশেষ করে ‘পুচি’। যে বিড়ালটিকে তার নিজের মেয়ের মতো করেই ভাবেন। সেভাবেই লালন-পালন করেন। তাপসীর ভাষায়, ‘এই সকল বিড়ালগুলো তার সন্তানের মতোই।’

বর্তমানে তাপসীর প্রায় ১৪টি বিড়াল রয়েছে। এই বিড়ালগুলোর সঙ্গে তার পরিবারের কাটানো মুহুর্ত, ভালোবাসার দৃশ্যগুলো ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে মাধ্যমে পৌছে দিচ্ছেন মানুষের কাছে। এ সকল ভিডিও পশু-পাখি নিয়ে অনেকের মনের মধ্য লালন করা ভ্রান্ত ধারণা, ভীতি দুর করছে। তাপসী তার ভিডিওতে মানুষকে সবসময় বুঝানোর চেষ্টা করেন, গৃহপালিত পশুপাখি ভয়ংকর কোনো প্রানী নয়, তারা মানুষের সাথে মিলেমিশে থাকতে পছন্দ করে। তারাও মানুষকে ভালোবাসতে জানেন। এছাড়া যারা বাড়িতে বিড়াল বা পশু-পাখি লালন করেন তাদের উদ্দেশ্যও নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ফেসবুকে তাপসীর ‘গলুস রিভিউ’ ও ‘পুচির মা’ নামে আরও দুটি জনপ্রিয় পেইজ আছে। ‘পুচি ফ্যামিলি’র রয়েছে প্রায় ১৫ লাখেরও বেশি ফলোয়ারস। এসকল মাধ্যম থেকে উপার্জনের একটি অংশ দিয়ে তাপসী ও তার পরিবার অসহায় মানুষের সেবা করে থাকেন।

কতোটা সহজ ছিল এই যাত্রা?

তাপসী দাসের এই পশুপ্রেমী হওয়াটা সহজ কাজ ছিল না। এজন্য তাকে বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকুলতার স্বীকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে পোষা প্রাণী সম্পর্কে একটি শ্রেণির মানুষের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণা থাকার কারণে তাকে অপ্রীতিকর মুহুর্ত কিংবা হেনস্তার শিকারও হতে হয়েছে। বাড়িতে একাধিক বিড়াল লালন-পালনে আপত্তি ওঠায় তাকে ঘন ঘন বাসা পরিবর্তনও করতে হয়েছে। তবে এসব কোনোকিছুই তার পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা কমাতে পারেনি। তাপসী বলেন, 'ওদের (বিড়াল) সাথে থাকা শুরু করার কারণে এখন ওদের ছেড়ে থাকা প্রায় অসম্ভব আমার কাছে, বর্তমানে ও যেমন ওদের সাথে আছি ভবিষ্যতে ওদের সাথে থাকবো। ওরা আমার পরিবারের অংশ।'

নিজের এই যাত্রায় সবচেয়ে বেশি পাশে পেয়েছেন স্বামী ও পরিবারকেই। তাপসী জানান, 'আমার পথচলার সবটুকুজুড়ে আমাকে আমার পরিবার এবং পরিবারের সদস্যরা খুবই সাহায্য করেছে, এতগুলো বিড়াল নিয়ে এতদূর আসার পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান আমার স্বামীর। তার সাপোর্ট ছাড়া এতদূর আসা কোনভাবেই সম্ভব ছিলো না।'

শুধু নিজের পোষা প্রাণীদের জন্যই তাপসীর সব পরিশ্রম, ভালোবাসা এমনটাও কিন্তু নয়। এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিকেরও বেশি বিড়ালের সুস্থতার জন্য ভ্যাক্সিনের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এছাড়া তার তৈরি বিভিন্ন ভিডিও কন্টেন্ট থেকে উপার্জিত আয় ব্যবহার হচ্ছে পশু-পাখি ও অসহায় মানুষদের জন্যই।

ইত্তেফাক/এএইচপি