স্পোর্টস ডেস্ক
এখন আর দুই দলের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয় না বললেই চলে। তাই ভারত-পাকিস্তানের লড়াইয়ের উপলক্ষের জন্য এখন তাই আইসিসির ইভেন্টই ভরসা। আর টুর্নামেন্টটা যখন বিশ্বকাপের মতো বড় আসর তখন আজকের ম্যাচটা বাড়তি উন্মাদনাই ছড়াচ্ছে। সেই উন্মাদনায় সামিল হয়েছেন সাবেক ক্রিকেটাররাও। তার ওপর দুদেশের মধ্যকার কূটনৈতিক রেষারেষিতে আছেই। সে কারণে অনেক সময়ই দুদলের মাঠের লড়াইও পরিণত হয় যুদ্ধে। তবে ক্রিকেট মাঠে যুদ্ধ নয়, সুন্দর ক্রিকেট দেখতেই বেশি আগ্রহী পাকিস্তানের কিংবদন্তিতুল্য পেসার ওয়াসিম আকরাম।
তিনি বলেন, ‘একটা দল জিতবে, অন্য দল হারবে। তাই এখানে যুদ্ধ না করে মাথা ঠান্ডা রাখাই ভালো। যারা এই ম্যাচকে যুদ্ধ হিসেবে দেখে তারা সত্যিকারের ক্রিকেট সমর্থকই নয়।’
১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বকাপ খেলা সাবেক এই স্পিডস্টার মনে করেন, আক্রমণাত্মক মানসিকতা দিয়েই কেবল ভারতকে হারাতে পারবে পাকিস্তান। তিনি বলেন, ‘ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপটা দারুণ। পাকিস্তানও খুব পিছিয়ে নেই। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে চাপ সামলানোটাই মূল ব্যাপার। আমি মনে করি আক্রমণাত্মক হলে পাকিস্তানও ম্যাচটা জিততে পারে।’
ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী স্পিনার হরভজন সিংও মনে করেন, চাপ সামলাতে পারাটাই হবে এই ম্যাচের ‘এক্স ফ্যাক্টর’। আর তার দাবি অতীত ইতিহাসের কারণেই চাপটা বেশি থাকবে ভারতের ওপর। পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ভাজ্জি বলেন, ‘একজন ক্রিকেটার হিসেবে সবসময় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভালো খেলার একটা জেদ থাকে। চাপটা এই জেদ থেকেই আসে। আর আমি মনে করি, ভারতের ওপরই চাপ থাকবে বেশি। কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে বরাবরই ভালো করেছে ভারত। এই রেকর্ড ধরে রাখার অদৃশ্য একটা চাপ বিরাটদের ওপর থাকবেই।’
ম্যাচের ফলাফল যাই হোক না কেন, সমর্থকদের মেজাজ হারাতে বারণ করলেন হরভজন। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সমর্থকরাই চাইবেন যেন তাদের দলই জিতুক। তাই এমন ম্যাচে হারের হতাশা বেশি থাকে। অনেকেই মেজাজ হারিয়ে ফেলতে পারেন। খেলার জন্য এই ব্যাপারটা আসলে দৃষ্টিকটু।’
ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কপিল দেব মহারণে এগিয়ে রাখছেন ভারতকেই। নিজের মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘দুদলের মধ্য তুলনা করলে অবশ্যই ভারতকে এগিয়ে রাখতে হবে। এখন পাকিস্তান দলের যে মান তাতে শক্তিমত্তা বিবেচনা করে দুদলের মধ্যকার ১০ ম্যাচে ভারতের কমপক্ষে সাতটিতে জেতা উচিত। পাকিস্তানের চেয়ে ভারতের দলটা ভালো, তবে ম্যাচের দিন কি হবে সেটা নিয়ে আগাম কিছু বলা মুশকিল।’
সাবেক পাকিস্তানি স্পিডস্টার ওয়াকার ইউনুসও এগিয়ে রাখছেন ভারতকেই। তার দাবি, জিততে হলে পাকিস্তানকে বাড়তি কিছু করতে হবে। বললেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সব ম্যাচই বড়। তবে এই বিশ্বকাপের ম্যাচটা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচটায় জিততে হলে অবশ্যই পাকিস্তানকে বাড়তি কিছু করতে হবে।’
বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের অতীত ইতিহাস সুবিধার নয়। যদিও অতীত নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না ওয়াকার। তিনি বলেন, ‘সবই এখন ইতিহাস। অতীত নিয়ে ঘাবড়ালে চলবে না। এটা নতুন ম্যাচ, ভাবতে হবে নতুন করে। কোটি কোটি চোখ এই ম্যাচের অপেক্ষায় থাকবে। জমজমাট একটা ম্যাচের প্রত্যাশা করাই যায়।’
