ছোট্ট-সুন্দর টনটনে বাংলাদেশ

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ২১:৩৭

শামীম হামিদ, টনটন (ইংল্যান্ড) থেকে

ইংল্যান্ডের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে সমারসেট কাউন্টির বুক চিড়ে বয়ে গেছে টোন নদী।

নদীর পূর্ব পাশে ঝকঝকে চকচকে এক শহর টনটন। শহরের প্রাণকেন্দ্রে সমারসেট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের মাঠ। এই মাঠেই আগামী সোমবার বাংলাদেশ খেলতে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ১৩৭ বছরের প্রাচীন এই মাঠের রয়েছে নানা ক্রিকেটের বিরল কিছু রেকর্ড। এই মাঠে এখনো কোনো টেস্ট ম্যাচ হয়নি। টি-২০ ম্যাচ হয়েছে মাত্র একটি। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে হয়েছে মাত্র ৫টি। তার মধ্যে এই বিশ্বকাপের দুটি। একটি আফগানিস্তান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ, আরেকটি অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তান ম্যাচ। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচটি হবে এই মাঠের ষষ্ঠ ওডিআই।

তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসর তেমন একটা না বসলেও সব ধরনের ক্রিকেট মিলে সর্বপ্রথম ব্যক্তিগত ৪০০ রানের ইনিংস দেখা যায় এই মাঠেই। ১৮৯৫ সালের জুলাইয়ে স্বাগতিক সমারসেটের বিরুদ্ধে ইনিংসটি খেলেছিলেন ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি ক্লাবের ক্যাম্পবেল ম্যাকলারেন। ওই ম্যাচে ক্যাম্পবেলের মোট স্কোর ছিল ৪২৪ রান। এই মাঠে দ্বিতীয়বারের মতো চারশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যান গ্রায়েম হিক। ১৯৮৮ সালে তিনি উরসের হয়ে সমারসেটের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন অপরাজিত ৪০৫ রানের ইনিংস। ক্রিকেট ইতিহাসে ব্যক্তিগত ১০টি চারশোর্ধ্ব ইনিংসের দুটিই হয়েছে ১৮৮২ সালে নির্মিত এই গ্রাউন্ডে। তবে এই মাঠ আরো স্মরণীয় হয়ে আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার স্যার ভিভ রিচার্ডসের কারণে। ১৯৮৫ সালের ১ জুন এই মাঠে সমারসেটের হয়ে ওরস্টারশায়ারের বিরুদ্ধে একদিনে ৩২২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছিলেন ভিভ। ২৫৮ বলের ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছিলেন ৪২টি বাউন্ডারি ও ৮ ছক্কায়। এ কারণে ভিভের মাঠ হিসেবেও এই স্টেডিয়ামটি পরিচিত।

ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ইয়ান বোথামের সেই কাহিনী নিশ্চয়ই অনেকের মনে আছে। সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন বোথাম। সমারসেট কাউন্টি ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে অনেক বছর (১৯৭৩-১৯৮৭) খেলেছিলেন ইয়ান বোথাম।

সম্প্রতি আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশের কাছে নাকানি চুবানি খেয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। আগামী সোমবার এই মাঠে আবার দেখা হচ্ছে তাদের সাথে। সঙ্গত কারণেই ওই ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেবারিট না ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে মনে রাখা দরকার, তাদের স্কোয়াডে ক্রিস গেইল, আন্দ্রে রাসেল, শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ারের মতো দুর্ধর্ষ ব্যাটসম্যান রয়েছে। ছক্কা মারায় ক্যারিবিয়ানদের জুড়ি নেই। তার ওপর যদি মাঠটা হয় টনটনের মতো ছোট তাহলেতো প্রতিপক্ষের কি হবে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। 

বাংলাদেশের জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারেন অনেক ক্যারিবিয়ানই। তবে টাইগার কোচ স্টিভ রোডস বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন আন্দ্রে রাসেলের নাম। তার মতে, রাসেল যে কোনো সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে রাসেলের চেয়েও বাংলাদেশের বড় ভয় বৃষ্টিকে নিয়ে। সোমবারও বৃষ্টি বাগড়া দিতে পারে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে। সেই ক্ষেত্রে আরেক দফা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে বাংলাদেশের সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন সুদূর পরাহত হয়ে যাবে।