সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাপার নেতৃত্ব প্রসঙ্গে রাঙ্গা

‘দেবর-ভাবির সম্পর্কে এর বেশি অবনতি ঘটবে না’

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৪১

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, এরশাদের মৃত্যুতে দুটি জাতীয় পার্টি গঠন হয়েছে। একটি রওশন এরশাদের নেতৃত্বে আরেকটি জিএম কাদেরের। দুটোতেই আমাকে মহাসচিবের দায়িত্ব রাখা হয়েছিল। আমি দলটাকে না ভেঙে, টুকরো টুকরো না করে, সবার সঙ্গে বসে মীমাংসা করে সমাধান করেছিলাম। আমি তখন কাউন্সিলের মাধ্যমে মহাসচিব হয়েছিলাম। সেই কারণে আমি মনে করি এটা দেবর-ভাবির সম্পর্ক, বেশি অবনতি ঘটবে না। এখন যা চলছে এটাও থাকবে না। তারপর রংপুর সিটিতে একজন নতুন মেয়র প্রার্থী দেওয়া হবে। 

সোমবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৩ টার দিকে রংপুর মহানগরীর দর্শনার পল্লী নিবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

জিএম কাদের প্রসঙ্গে রাঙ্গা বলেন, জিএম কাদেরের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব চলছে না। উনিই আমার সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করে আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন। আমি এরশাদ সাহেব ও জিএম কাদেরের সময় মহাসচিব ছিলাম। কাউন্সিলের মাধ্যমে আমি নবম সংসদের মহাসচিব হয়েছিলাম। জিএম কাদের আমার প্রাথমিক সদস্য পদ পর্যন্ত বাতিল করে দিয়েছেন। এর কোনো কারণ জানাতে পারেননি। আমি আশা করছি কোনো দ্বন্ধ থাকবে না এক সময়, এটা ঠিক হয়ে যাবে। 

মসিউর রহমান রাঙ্গা এর আগে পল্লী নিবাসে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তার সঙ্গে গঙ্গাচড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নুর আমিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মমিনুর রহমান, জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খতিবার রহমানসহ রওশন-রাঙ্গাপন্থি শতাধিক কর্মী, সমর্থক ও পরিবহন শ্রমিকরা উপস্থিত ছিলেন।  

মসিউর রহমান রাঙ্গা আরও বলেন, আমার কাছ থেকে কেউ সুযোগ-সুবিধা নেয়নি। বরং আমি অনেকের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা ও ভোট নিয়ে তিন বার এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি। আমি কারও জন্য কোনো উপকার করেছি বলে আমার মনে হয় না। আমি ৩৮ বছর ধরে এই দলটি গড়েছি। আমার হাতে তৈরি অনেক নেতা-কর্মী রয়েছে। অথচ আমাকে হঠাৎ করে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এটা নিয়ে আমি হাসব না কাঁদব এখনো বুঝে উঠতে পারিনি। এর জন্য আমি কাউকে দোষারোপও করছি না।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় পার্টি মানেই লাঙল। আর লাঙল যার কাছে থাকবে, সেই হবে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। দলের মহাসচিব রংপুরে যাকে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন সেটা কোনো দিন বৈধ হতে পারে না। কারণ দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। মহাসচিব অযাচিতভাবে মোস্তফাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। চেয়ারম্যান এখন আইনি সমস্যার কারণে মনোনয়ন পত্রে স্বাক্ষর করতে পারছেন না। তবে এই সমস্যাও থাকবে না। দ্রুত সব কিছুর সমাধান হয়ে যাবে।

সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুরে আসেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। সেখান থেকে নিজ নির্বাচনী এলাকা গঙ্গাচড়া গিয়ে ডিজিটাল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। গঙ্গাচড়া থেকে তার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে রংপুর মহানগরীতে শোডাউন করেন। 

ইত্তেফাক/পিও