মাহবুব শরীফ
কৌতূহল থেকে ডাউনলোড করেছিলেন অ্যাপটি। ব্যবহারের পর বুঝলেন, ঠিক আপনার জন্য নয়! পাশাপাশি ফোনে জায়গাও বেশি নিচ্ছিল। অভ্যাস-মতোই তাই স্মার্টফোন থেকে আনইন্সটল করে দিলেন অ্যাপটিকে। মনে মনে নিজেকে ‘স্মার্ট টেক গুরু’ ভেবে মুচকি হেসেও নিলেন। মনে হতেই পারে, ‘পানিভাত’। তবে বাস্তবে তা নয়। মোবাইল থেকে মুছে দেওয়ার পরও আপনার তথ্য মনিটরিং করতে পারে অ্যাপ।
আনইন্সটলের পরও ফিরে আসা
যে সংস্থাগুলো থেকে ডেভেলপার-টুলকিট পেয়ে থাকেন অ্যাপ ডিজাইনাররা, সেই ডেভেলপার সংস্থাগুলোই এবার নতুন সফ্টওয়্যার তৈরি করেছে। যার মাধ্যমে স্মার্টফোন থেকে সরে যাওয়ার পরও ইউজারকে ট্র্যাক করতে পারবে অ্যাপ। আইওএস ও অ্যান্ড্রয়েড-দুই অপারেটিং সিস্টেমের জন্যই এই সফ্টওয়্যার বানানো হয়েছে। ডিলিট হয়ে যাওয়ার পরও ব্যবহারকারীকে পুনরায় ইন্সটলে বাধ্য করতেই এই সফ্টওয়্যারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অর্থাত্ আপনি কোনো অ্যাপ স্মার্টফোন থেকে সরিয়ে দিলেও, বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আপনার মন জয়ের চেষ্টা চালাবেন অ্যাপ নির্মাতারা।
যেভাবে সম্ভব এই পদ্ধতি
সাইলেন্ট পুশ নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এই কাজ করছে সংস্থাগুলো। এমনকি গুগল ও অ্যাপলের স্মার্টফোনেও এই ‘বাগ’ রয়েছে বলে আশঙ্কা। প্রসঙ্গত, ইউজারের অজান্তেই সাইলেন্ট পুশ নোটিফিকেশনস ব্যবহার করে অনেক অ্যাপই। তবে ওই সাইলেন্ট নোটিফিকেশন যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে, ডেভেলপাররা বুঝতে পারেন যে ইউজার অ্যাপটি সরিয়ে দিয়েছে স্মার্টফোন থেকে। কিন্তু নতুন আনইন্সটল সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইলের অ্যাডভার্টাইজিং আইডির সঙ্গে জুড়ে থাকে অ্যাপের কিছু ফাইল। যার মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহারকারীকে ট্র্যাক করে বিজ্ঞাপন দিতে থাকেন অ্যাপ নির্মাতারা।
স্মার্টফোন সংস্থাগুলো যা করছে
অ্যাপল ইতিমধ্যেই এই ধরনের চেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ করেছে। আইওএস ব্যবহারকারীরা সেটিংসে গিয়ে প্রাইভেসি অপশন থেকে ‘লিমিট অ্যাড ট্র্যাকিং’ সিলেক্ট করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড ইউজাররাও সেটিংসে গিয়ে অ্যাড সার্ভিসে গিয়ে একই অনুমতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে আইওএস-এর তুলনায় অ্যান্ড্রয়েডে এই সংক্রান্ত সুযোগ ও সচেতনতা কম। আপনার ফোনে কি এই সুযোগ রয়েছে। সেটিংসে প্রাইভেসিতে গিয়ে চেক করুন।
