রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষমতা দুদকের নেই: দুদক চেয়ারম্যান

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২, ০১:০৫

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ক্ষমতা তাদের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেই বলে মন্ত্যব করেছেন দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, দেশ থেকে অর্থ যে দেশে পাচার হয় সেখানে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে না দুদক। দুদককে অনেকগুলো বিষয় মেনে কাজ করতে হয়। সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ঘুরে বিভিন্ন দেশের কাছে তথ্য চাইতে হয়। যে কারণে ঠিক সময়ে অনেক কাজই করতে পারে না দুদক। আবার ঐসব দেশে তথ্য দিতে চায় না। এজন্য বিলম্ব হয়, তখন মনে হয় দুদক কিছু করছে না।

গতকাল সোমবার বিকালে দুদকের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় দুদকের দুই কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান ও জহুরুল হকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, যেসব দেশে টাকা পাচার হয়, সেসব দেশের সঙ্গে যাতে দুদক সরাসরি যোগাযোগ করতে পারে, সেই আইন করতে হবে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, অর্থ পাচার নিয়ে কাজ করে সাতটা প্রতিষ্ঠান। আমরা করি এই সাত ভাগের এক ভাগ। তারপরও আমরা অর্থ পাচার ঠেকাতে কাজ করছি। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াটাও দীর্ঘ। বিভিন্ন মাধ্যমে যেতে হয়।

দুদকের চেয়ারম্যান বলেন, ‘মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগের বোঝা আমাদের নিতে হচ্ছে। অথচ এটা আমাদের শিডিউলেই নাই। আমাদের কাছ থেকে এটা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কাজের ক্ষমতা এখন দুদকের নাই। আবার অর্থ পাচারের তথ্য পেতে হলে আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিতে হয়।’

দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ বলেন, দেশের দুর্নীতি দমন করতে চেষ্টা করে যাচ্ছে দুদক। তবে সঠিক সময়ে কাজ করার জন্য সব পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। এছাড়া আমরা সব কাজ করতে পারি বিষয়টি এমনও নয়। তবে অনেকেই যে কোনো অপরাধ হলেই বলেন দুদক করেটা কি? আসলে তারা দুদকের কাজ সম্পর্কে না জেনেই এমন মন্তব্য করে বসেন।

দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মো. মোজাম্মেল হক খান বলেন, মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত ২৭ ধরনের অপরাধের কেবল একটি বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারে। অথচ অর্থ পাচারের যাবতীয় দায় দুদককে নিতে হয়। এটা অত্যন্ত পীড়াদায়ক।

মতবিনিময় সভায় দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) জহুরুল হক বলেছেন, কেবল চুনোপুঁটিই ধরে না দুদক, বিশ্ব রেকর্ড করার মতো রাঘববোয়ালদেরকে ধরেছে। আমরা যেসব কাজ করি তার সব খবর আপনাদের কাছে যায় না। আর সব খবর প্রচার করেন, তাও না। আপনারা বলেন, দুদক কেবল চুনোপুঁটি ধরে। কিন্তু দুদক বিশ্ব রেকর্ড করার মতো রাঘববোয়াল ধরেছে।

তিনি বলেন, জহুরুল হক আরো বলেন, দুদকই পৃথিবীর একমাত্র সংস্থা যে দুর্নীতির দায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। অনেককে জেলেও পাঠিয়েছে, যা বিশ্বে অন্য কোনো দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা করেনি।

অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলায় দুদকের সাফল্য তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলায় দুদকের সাফল্য রয়েছে। দুদক ২০২০ সালে আটটি ও ২০২১ সালে ১৩টি মামলা দায়ের করেছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে চারটি ও ২০২১ সালে একটি মামলার চার্জশিট দায়ের করেছে। যেসব মামলার চার্জশিট হয়েছে আমার বিশ্বাস সেগুলোর মামলার ৮০ শতাংশ ফল আমাদের পক্ষে আছে।

ইত্তেফাক/ইআ