রোববার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সাটুরিয়ায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ছয় মাসে অর্ধশতাধিক গরু চুরি

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২২, ০১:২৯

প্রতি রাতে উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি, চুরি, হত্যা, হত্যার প্ররোচনা ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নবাসী সন্ধ্যা হলে গরু চুরির ভয়ে বাড়ি থেকে বের হয় না। গত পাঁচ মাসে অর্ধশতাধিক কৃষকের গরু চুরি হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকা।

গত শুক্রবার রাতে উপজেলার হরগজ গ্রামের মো. আলামিনের বাড়িতে একদল চোর ঢুকে গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করে সাড়ে তিন ভরি স্বণাংকার, পাঁচ ভরি রূপা ও নগদ ১ লাখ ৭ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। একই রাতে উপজেলার পাড়াগ্রামের ভূষণ আলীর বাড়িতে ঘরের ভেতর কীটনাশক স্প্রে করে ঘুমন্ত সবাইকে অচেতন করে দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ টাকা নিয়ে যায়। বালিয়াটি বাজারের ব্যবসায়ী অনিল চন্দ্র সাহা রাত ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে বাজারের একটি টিউবওয়েলে হাত-মুখ ধুতে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে দুইটি মোবাইল ফোনসহ প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। গত ১৯ অক্টোবর রাতে উপজেলার গোলড়া গ্রামের মো. আজিজ মাষ্টারের বাড়ির ভাড়াটিয়া আজিম সরদারসহ তিন জনের হাত-পা বেঁধে সাত-আট জন মুখোশধারী ডাকাতদল ঘরে প্রবেশ করে ১৫ মোবাইল ফোনসহ প্রায় দেড় লাখ টাকা, তিন ভরি রুপা ও স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে য়ায়। উপজেলার গরুর খামারি ও কৃষক ভূষণ আলী জানান, রাতের বেলায় তারা ঘরের ভেতর না ঘুমিয়ে গরুর গোয়াল ঘরে ঘুমিয়ে থাকেন এবং রাত জেগে গরু পাহারা দেন চুরি হওয়ার ভয়ে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাদকসংক্রান্ত মামলা হয়েছে ১৫টি, চুরির অভিযোগে মামলা হয়েছে ছয়টি, হত্যা মামলা দুটি ও আত্মহত্যা প্ররোচনায় মামলা দুটি এবং অপহরণ মামলা পাঁচটি। হত্যা মামলার কোনো কুলকিনারা করতে না পারায় পুলিশের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মাদক। মাদকসেবী ও মাদকদ্রব্য ব্যবসায়ীদের পুলিশ শনাক্ত করতে না পারায় পথেঘাটে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে অভিনব কায়দায় টিউবওয়েলের পানিতে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে মানুষকে অচেতন করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। ব্যাটারিচালিত অটোবাইক, হ্যালোবাইক ও রিকশা ভ্যান চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে অহরহ। উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে দিনদুপুরে চুরি হচ্ছে দোকানের মালামাল ও দূর্বৃত্তরা ক্যাশবাক্স ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এসব ঘটনা উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় ইউপি চেয়ারম্যানরা বিষয়টি উপস্থাপন করলেও আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে পুলিশের কোনো মাথা ব্যথা নেই। উপজেলার দিঘলীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আলম জুয়েল বলেন, তার ইউনিয়ন থেকে ২০ থেকে ২৫টি গরু চুরি হয়েছে। চুরি যাওয়া একটি গরুও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

সাটুরিয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন পিন্টু বলেন, কৃষকের গরু দিনদুপুরে চুরি ছিনতাই হচ্ছে তা ভাবিয়ে তুলেছে। পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় উপজেলার সর্বত্র মাদক সেবক ও মাদক ব্যবসায়ীদের আনাগোনা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বালিয়াটি ইউপি চেয়ারম্যান মো. মীর সোহেল আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়ন থেকে আটটি গরু চুরি হয়েছে। এক রাতে চার বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে কয়েক লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায় তুলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

বরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান বীর-মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল হাই বলেন, তার ইউনিয়ন ধলেশ্বরী নদী দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ায় রাতে ট্রলারসহ এসে দুর্বৃত্তরা পাঁচটি গরু ও কয়েকটি বাড়ির মালামাল লুটে নিয়েছে।  কৃষকরা এখন ঘরে না শুয়ে গোয়াল ঘরে রাত জেগে পাহারা দেন বলে তিনি জানান।

সাটুরিয়া থানার ওসি সুকুমার বিশ্বাস বলেন, টিন কেটে ঘরে চুরি ও চেতনানাশক স্প্রে করে মানুষকে অচেতন করে মালামাল লুটের বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। শীত পড়ায় চোরের উপদ্রব একটু বেড়ে গেছে। অচিরেই এ দুর্বৃত্তদের তারা ধরতে সক্ষম হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

ইত্তেফাক/ইআ