আলমগীর ইউসুফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনের শিশু ওয়ার্ডের পলেস্তারা খসে পড়ে গত বুধবার ৫ শিশুসহ ৯ জন আহত হওয়ার ঘটনার পরও ঐ ভবনের নিচ তলায় চলছে চিকিত্সা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এর আগে ২০১৫ সালে হাসপাতালের এ দ্বিতল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছিল গণপূর্ত বিভাগ।
পরিত্যক্ত এ ভবনের নিচতলায় রয়েছে জরুরি বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক, আবাসিক চিকিত্সকের দপ্তর এবং রোগী দেখার জন্য চিকিত্সকদের বিভিন্ন চেম্বার ও ওষুধ বিতরণ শাখাসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখনো এ ভবনে চিকিত্সা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন, জরুরি বিভাগে আগত রোগী ও তাদের স্ব্বজন এবং কর্তব্যরতদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করেছে।
পরিত্যক্ত ভবনে চিকিত্সা ও প্রশাসনিক কাজকর্ম অব্যাহত রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে আবাসিক চিকিত্সক কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন মো. আবদুল আজিম জানান, ভবনের নিচতলা ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও স্থান সংকুলানের অভাবে জরুরি বিভাগসহ প্রশাসনিক দপ্তরগুলো অন্যত্র স্থানান্তর করা এ মুহূর্তে কোনোভাবে সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের ভেতরে একটি টিনশেড ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে। দ্রুত তা সম্পন্ন করা হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ওই টিনশেড ভবনে দপ্তরগুলো স্থানান্তর করা হবে। তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনার পর শিশু ও মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগীদের পার্শ্ববর্তী মাল্টিপারপাস ভবনে আপাতত স্থানান্তর করা হয়। আগামী সপ্তাহের মধ্যে নির্মাণাধীন টিনশেড ভবনের একাংশে এ দুই ওয়ার্ডের রোগীদের স্থানান্তর করা হবে। বর্তমানে রোগী ভর্তি ও চিকিত্সা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। দুর্ঘটনার দিন ও পর দিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ও উপ-পরিচালক হাসপাতালে আসেন। তারা রোগীদেরকে আপাতত অন্যত্র সরানোর নির্দেশ দেন এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান।
এ দিকে, জেলা গণপূর্ত বিভাগ নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল হাসান জানান, জেনারেল হাসপাতালের এ পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে ১০ তলা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গত বছরের প্রথম দিকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। এতে ৯৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন ব্যয় ধরে বরাদ্দ চাওয়া হয়। পুনরায় এ বরাদ্দ প্রদানের জন্য গত ৬ মাস পূর্বে আবারও মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হয়। কিন্তু আজও সে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। যে কারণে নতুন ভবন নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস জানান, দুর্ঘটনার পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবকে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দ্রুত অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি জেলার সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে অবহিত করা হয়।
