সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আসাম-মেঘালয় সীমান্তে গোলাগুলিতে নিহত ৬

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২২, ১২:১৮

ভারতের দুই প্রতিবেশী রাজ্য আসাম ও মেঘালয়ের সীমান্তে গোলাগুলিতে এক বনরক্ষীসহ ছয়জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) সকালে মেঘালয়ের একটি গ্রামের কাছে কাঠ পাচারের চেষ্টার সময় এ ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় জি নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার সীমান্তবর্তী মেঘালয়ের পশ্চিম জৈন্তা পাহাড় জেলার মুকরোহ গ্রামে সকালে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা নিয়ে উত্তেজনা বেড়েছে।

এই ঘটনার জেরে মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে মঙ্গলবার রাতে উত্তেজিত জনতা আসাম নম্বরের একটি এসইউভিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভাতে গিয়ে গাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

আসামের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার সীমান্তবর্তী মেঘালয়ের পশ্চিম জৈন্তা পাহাড় জেলার মুকরোহ গ্রামে সকালে ঘটনাটি ঘটেছে

দুই রাজ্যের সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মঙ্গলবার সকাল থেকে মেঘালয় রাজ্যের সাতটি জেলায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে। গুলিবর্ষণের ঘটনায় মেঘালয়ের পাঁচ বাসিন্দাসহ আসামের এক বনরক্ষী নিহত হয়েছেন।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে আসাম বন বিভাগের একটি দল চোরাই কাঠ বোঝাই একটি ট্রাক আটকানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ট্রাকটি না থামিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গেলে পুলিশকে ধাওয়া দেয় তারা।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টার দিকে আসাম বন বিভাগের একটি দল চোরাই কাঠ বোঝাই একটি ট্রাক আটকানোর চেষ্টা করে

এক পর্যায়ে ট্রাকটি আন্তঃরাজ্য সীমান্ত অতিক্রম করে মেঘালয়ে প্রবেশ করে। বনরক্ষীরা রাজ্যের মুকরোহ গ্রামের কাছে ট্রাকটির একটি চাকা পাংচার করার পরে ট্রাকটিকে থামাতে সক্ষম হয়। 

কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসীরা ঘটনাটিকে অননুমোদিত অনুপ্রবেশ হিসেবে নিয়ে আসাম পুলিশ ও বনরক্ষীদের ঘেরাও করে। আসামের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার এসপি ইমদাদ আলি জানান, ট্রাকটি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালায়।

ট্রাকটি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলি চালায়

 গুলিতে একটি চাকা পাংচার হওয়ার পর তারা ট্রাকসহ তিন জনকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে ফেরার সময় উত্তেজিত অস্ত্রধারীরা ট্রাকটিতে হামলা চালায়।

অন্যদিকে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা এ ঘটনাকে অমানবিক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, আসাম পুলিশ বিনা উস্কানিতে গুলি চালিয়েছে। তিনি জানান, তে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন মেঘালয়ের বাসিন্দা বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

 মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা

নিহত অপর ব্যক্তি আসাম বন বিভাগের একজন বনরক্ষী। আহত অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

ইত্তেফাক/ডিএস