সড়কপথ যেন মৃত্যুকূপ!

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ২১:৫০

বাংলাদেশে বর্তমানে একটি বড় সমস্যা হলো সড়ক দুর্ঘটনা। এমন কোনো দিন নেই যে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে না। প্রতিদিনই খবরের কাগজে বড় বড় অক্ষরে শোভা পায় দুর্ঘটনায় আহত কিংবা নিহতের খবর। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জনের প্রাণ ঝরে যায় নির্মম সড়ক দুর্ঘটনায়। দুর্ঘটনায় আহত বা নিহতের সঠিক পরিসংখ্যানও পাওয়া যায় না। সড়ক পথে নানা উদ্যোগ গ্রহণের পরও কমছে না দুর্ঘটনা। প্রতিদিন বেড়েই চলছে দুর্ঘটনার পরিমাণ আর নিভে যাচ্ছে অসংখ্য জীবনপ্রদীপ। যে কারণে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিটি যানবাহন যেন সর্বোচ্চ গতিতে ধেয়ে আসা মৃত্যুদূত। এর থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ কেউই। নিমিষেই সড়কে পিষে যাচ্ছে অনেক জ্ঞানী-গুণী ও আগামীর কর্ণধাররা। সড়ক দুর্ঘটনার ফলে অনেকেই হারায় পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তিকে। আর যদি বেঁচে থাকে তাহলে হয়তো গ্রহণ করতে হয় পঙ্গুত্বের অভিশাপ। যার ফলে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে পারিবারিক জীবন এবং জন্ম নেয় নানা সামাজিক সমস্যা।

সড়ক পথে নানা উদ্যোগ গ্রহণের পরও দুর্ঘটনা না কমার পিছনে রয়েছে অনেক কারণ। মালিকরা সাধারণত চালকদের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রতি উদাসীন। বেশিরভাগ চালকেরই নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স। হেলপার থেকে কয়েকদিনেই হয়ে উঠছে চালক! ট্রাফিক আইন মানা তো পরের কথা, আইন সম্পর্কে ধারণাই নেই অনেকের। তাছাড়া ওভারটেকিং তাদের কাছে খেলার মতো! যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। এছাড়াও বেশিরভাগ গাড়ি ফিটনেসহীন। আইনের পরোয়া না করে বেপরোয়াভাবে মেতে ওঠে বেশি ট্রিপ দেয়ার নেশায়।

সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি অন্যতম কারণ হলো পথচারীদের অসতর্কতা। ফুটওভারব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং ব্যবহার না করে রোডের মাঝখান দিয়ে পার হওয়ায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। তাছাড়া রাস্তার মাঝে অবৈধ পার্কিং এবং ফুটপাত দখল করে দোকানপাট গড়ে তোলাও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য অনেকাংশে দায়ী। সড়ক পথে দুর্ঘটনা রোধে সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এর মধ্যে অন্যতম হলো চালকদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী লাইসেন্স প্রদান করা। ওভারটেকিং ও বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে ট্রাফিক পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে। ফিটনেসহীন যানবাহন সরিয়ে নিতে হবে। চালকদের বিশ্রামের সুযোগ এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানোর সুযোগ করে দিতে হবে। এর পাশাপাশি তাদের আকর্ষণীয় বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। যাত্রী এবং পথচারীদের জেব্রাক্রসিং এবং ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে উত্সাহিত করতে হবে। সর্বোপরি, সবার সচেতনতাই পারে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করতে।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়