সাটুরিয়ায় প্রবেশপত্র আটকিয়ে জরিমানা আদায়

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ১৪:২৪

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকিয়ে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে জরিমানার অর্থ আদায় নিয়ে অভিভাবদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ২৭ নভেম্বর রবিবার থেকে সাটুরিয়া উপজেলার সকল মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৬০ শিক্ষার্থী এবার বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কথা রয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী বছরের কয়েক দিবস অনুপস্থিতি ছিল। বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীরা বেতন পরিশোধ করতে গেলে তাদের বেতনের চেয়ে জরিমানার টাকা গুনতে হয়েছে।

নবম শ্রেণির ছাত্র  মো. হাফিজুর ইসলাম, তার রোল নম্বর ৮। চলতি বছরে তার জরিমানা হয়েছে তিন হাজার ৪০০ টাকা।

নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী রিফাত হোসেনের জরিমানা গুনতে হয়েছে তিন হাজার ৫০০ টাকা।

সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইউনুছ আলীর জরিমানা হয়েছে ৯৫০ টাকা।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র শান্তি ৮০০ টাকা এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ফয়সাল হোসেন ৪০০ টাকা জরিমানা পরিশোধ করে পরীক্ষার প্রবেশপত্র পেয়েছে।

জনিমানার বিষয়ে চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল জানান, অত্র বিদ্যালয়ে ৬৬০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে ১৫০ থেকে ২০০ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন। তাদের ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেন যারা বিদ্যালয়ে একদিন অনুপস্থিত থাকবে তাদের ক্ষেত্রে ৫০ টাকা করে জরিমানা দিয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

তিনি বলেন, এই জরিমানার নেওয়ার উদ্দেশ্য হলো বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার বাড়ানো।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের মানুষ নদী ভাঙনে দিশেহারা। এই ইউনিয়ন কালিগঙ্গা ও ধলেশ্বরী এই দুই নদী দ্বারা তিনভাগে বিভক্ত হয়েছে। এই ইউনিয়নে দরিদ্রতার সংখ্যাই বেশি। কাজ করলে খাবার জুটে, কাজ না করলে খাবার জুটে না। বাবা ও মায়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও কাজ করে থাকে। এ কারণে তাদের বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকতে হয়।

এ ব্যাপারে চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জানান, একদিন অনুপস্থিত থাকলে ৫০ টাকা জরিমানা নেওয়া হবে এমন কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য কিছু কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরা জানান, চরতিল্লি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জরিমানার নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। প্রবেশপত্র আটকিয়ে জরিমানার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষযয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।

যদি ম্যানেজিং কমিটি জরিমানার আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তা নোটিশ করে শিক্ষার্থীদের আগে জানাতে হবে বলে জানান  ইউএনও। 

ইত্তেফাক/আরএজে