বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দিল্লির জামে মসজিদে নারীর প্রবেশ নিষেধ? 

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ১৬:৩০

দিল্লির শতাব্দী প্রাচীন জামে মসজিদে শুধু দেশ থেকে নয় বিদেশ থেকেও হাজার হাজার পর্যটক আসেন। কেউ আসেন ধর্মীয় কারণে, কেউ বা এর ইতিহাস জানতে, স্থাপত্য দেখতে। সম্প্রতি সেই জামে মসজিদের প্রধান দরজায় নোটিস টাঙানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, নারীর প্রবেশ নিষেধ। ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে সেই নোটিস বেশ মানুষের চোখে পড়েনি। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। জামে মসজিদের শাহী ইমাম এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

যে নোটিস টাঙানো হয়েছিল, তা আদৌ জামে মসজিদ কর্তৃপক্ষের কি না, তা নিয়ে প্রথমে সংশয় দেখা দিয়েছিল। এ বিষয়ে শাহী ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারি জানান, আগে মসজিদ চত্বরে নারীর প্রবেশে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি দেখা গেছে, মসজিদ চত্বরকে ডেটিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এ নিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সে কারণেই এই নোটিস টাঙানো হয়েছে। তবে ধর্মীয় কারণে কেউ মসজিদে এলে, তাকে ঢুকতে দেওয়া হবে।

মসজিদ চত্বরকে ডেটিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

শাহী ইমামের বক্তব্যে স্পষ্ট, কোনো নারীই মসজিদে ঢুকতে পারবেন না, এমনটা নয়। তবে সকলকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ইমাম নিজেই জানিয়েছেন, এই নোটিস দেওয়ার পরও বেশ কিছু নারীকে মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু এতেই বিতর্ক থামছে না। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কে কী কারণে মসজিদে আসছেন, তা ঠিক করবে কে? মসজিদের যে জায়গায় নামাজ পড়া হয়, সেখানে এমনিতেই সকলকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। 

 মসজিদের যে জায়গায় নামাজ পড়া হয়, সেখানে এমনিতেই সকলকে ঢুকতে দেওয়া হয় না। 

কিন্তু তার বাইরে ঘুরতে বহু মানুষ আসেন। অনেকেই আসেন ইতিহাস ও স্থাপত্য দেখতে। বহু বিদেশি পর্যটক আসেন। তাদের ক্ষেত্রে কী করা হবে? শুধু তাই নয়, প্রশ্ন উঠছে, 'ডেটিং' বন্ধ করতে শুধুমাত্র নারীদের উপরেই কোপ পড়ছে কেন? পুরুষরা কি সে কাজ করছেন না?

বেশ কিছুদিন আগে মসজিদ কর্তৃপক্ষ গেটের বাইরে লিখে দিয়েছিলেন, মসজিদ চত্বরে মিউজিক ভিডিও শ্যুট করা যাবে না। নারী ও পুরুষ নির্বিশেষে সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে কোনো বিতর্ক হয়নি। একইভাবে মসজিদ চত্বর ডেটিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না, এমন নোটিস কি দেওয়া যেত না? এসব প্রশ্ন উঠছে।

বেশ কিছুদিন আগে মসজিদ কর্তৃপক্ষ গেটের বাইরে লিখে দিয়েছিলেন, মসজিদ চত্বরে মিউজিক ভিডিও শ্যুট করা যাবে না।
 
দিল্লির নারী কমিশন একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করেছে। সেখানে কেন এই নোটিস জারি হলো, তা নিয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। যে বৈঠকে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিবরণী চাওয়া হয়েছে। 

নারী কমিশনের প্রধান জানিয়েছেন, জামে মসজিদের নোটিস নারী অধিকারের বিরোধী। এ নিয়ে সবরকম লড়াই তারা করবেন। বিষয়টিকে তারা গণতন্ত্র বিরোধী বলেও দাবি করেছেন।

দক্ষিণ ভারতের শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার পরে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল।

এরআগে দক্ষিণ ভারতের শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার পরে তীব্র আন্দোলন হয়েছিল। সেখানেও নারীর অধিকারের প্রশ্ন সামনে এসেছিল। যে হিন্দুত্ববাদীরা সে সময় আন্দোলনের বিরুদ্ধে কথা বলেছিল এবং মন্দিরের ঐতিহ্য রক্ষার কথা বলেছিল, জামে মসজিদের ঘটনায় তাদের কেউ কেউ নারী অধিকারের প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসছেন। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই মন্তব্য করেছে।

ইত্তেফাক/ডিএস