রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিএনপি নেতার দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করলো ইয়াবা কারবারিরা

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ০৩:৩০

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলা বিএনপির ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি সিদ্দিক আহম্মদের (৫৫) দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। ভাই হত্যার বদলা নিতে তাকে স্থানীয় মেম্বার এনামুল হক ওরফে এনাম মেম্বার তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

শনিবার দুপুরে টেকনাফের সদর ইউনিয়নে নাজিরপাড়া মাদ্রাসা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এনাম মেম্বার আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি। সম্প্রতি ইয়াবা সংক্রান্ত মামলায় আদালতে তার সাজা হয়েছে। কিন্তু তিনি এখন পলাতক রয়েছেন। এ অবস্থাতেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এনামুল হক।

পুলিশ, আহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন জানায়, আহত সিদ্দিক আহম্মদ নাজিরপাড়া এলাকার মৃত নজির আহমদের ছেলে। তিনি গত ছয় বছর ধরে সপরিবারে কক্সবাজার শহরে বসবাস করছেন। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি এনাম মেম্বারের বড় ভাই আজিজুল হক মার্কিনকে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় আহত সিদ্দিককে প্রধান ও তার আত্মীয়স্বজনদের আসামি করে মামলা করে নিহতের পরিবার। এ মামলার পর থেকে সিদ্দিক এলাকা ছেড়ে কক্সবাজার শহরে চলে আসেন। গতকাল শনিবার তিনি টেকনাফে সাবরাংয়ে তার অসুস্থ মেয়েকে দেখতে যান। পরে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে নাজির পাড়া মাদ্রাসার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে এনামুল হকের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল সিদ্দিককে গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেলে। পরে এনাম মেম্বারের আস্তানায় নিয়ে তার দুই হাতের কবজি কেটে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এরপর মাঠে এসে কর্তন করা কবজি নিয়ে উল্লাস করে ইয়াবা কারবারিরা। গ্রামবাসী রক্তাক্ত সিদ্দিককে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। 

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাছিম ইকবাল জানান, দুই হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এক ব্যক্তিকে নিয়ে আসে স্বজনরা। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কক্সবাজারে পাঠানো হয়েছে।

আহতের আত্মীয় ও একই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাম জালাল বলেন, এনামের ভাইকে হত্যার দায়ে সিদ্দিকসহ তার আত্মীয়দের বিরুদ্ধে মামলা করে পরিবারটি। চলতি বছরেই ঐ মামলার রায় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারি এনাম মেম্বার ঐ হত্যাকে পুঁজি করে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে। সেই বাহিনীর দ্বারা এলাকার নিরীহ লোকজনের জায়গা সম্পত্তি দখল, প্রতিবাদী লোকজনকে হত্যাসহ নানা অপকর্ম করছে। কিছুদিন আগে এনাম তার চাচাতো ভাই ভুট্টোকে কৌশলে হত্যা করিয়েছে। তারও আগে সিদ্দিকের পরিবারের সবকিছু দখল করে নিয়েছে এনাম বাহিনী। তিনি আরও বলেন, এই বাহিনীর ভয়ে সিদ্দিক ও তার অনেক আত্মীয় এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। শনিবার সিদ্দিক তার অসুস্থ মেয়েকে দেখে কক্সবাজার ফেরার পথে ইউপি সদস্য এনামুল হক ও তার ভাই চাদ মিয়া, সাহাব মিয়াসহ একদল ইয়াবা কারবারি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সিদ্দিককে গাড়ি থেকে নামিয়ে হামলা চালায়। 

তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য এনামুল হক বলেন, সিদ্দিক, হাম জালাল দুই জনেই আমার ভাই মার্কিন হত্যা মামলার আসামি। তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। মামলায় তারা দোষী সাব্যস্ত হবে। আর সেই রায়কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই আমাকে আসামি করতে উঠে পড়ে লেগেছে চক্রটি।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি আবদুল হালিম বলেন, এক ব্যক্তির দুই হাতের কবজি কর্তন করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। কে বা কারা হামলা করেছে, কি কারণে হামলা করছে তা জানার পাশাপাশি হামলাকারীদের ধরতে অভিযান চলছে।

ইত্তেফাক/এমএএম