বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১৮ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সমাবেশে ইমরান

বুলেটপ্রুফ কাঁচের আড়াল থেকে বক্তৃতা দেন ইমরান খান

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১৯:৫৩

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তিন সপ্তাহ আগে গুলিবিদ্ধ ও আহত হওয়ার পর এই প্রথম বিশাল জনসভায় তার সমর্থকদের সামনে বক্তব্য রেখেছেন। রাওয়ালপিন্ডি শহরে আয়োজিত ওই সমাবেশে হাজারো মানুষ জাতীয় পতাকা ও দলীয় প্রতীক নিয়ে ভিড় করেন। সাবেক এই ক্রিকেট তারকা সবাইকে মৃত্যুর পরোয়া না করে বাঁচার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই মাসের শুরুর দিকে এমনই এক জনসভায় হামলার ঘটনায় একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী সে সময়ে ডান পায়ে আঘাত পান এবং সেখানে অস্ত্রোপচার করাতে হয়। তিনি ওয়াজিরাবাদে হামলার পেছনে বর্তমান সরকারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ আনেন।

কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে এক ব্যক্তিকে বন্দুক হাতে দেখা যায়। ওই ঘটনায় তাকেই একমাত্র সন্দেহভাজন হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছে। তার থেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও নেয়া হয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডি সমাবেশে, কয়েক ঘণ্টা বিলম্বের পরে যখন মি. খান হাজির হন, তখন তার সমর্থকরা উল্লাসে ফেটে পড়েন।

এক নারী বিবিসিকে বলেন, মি. খান এই সমাবেশে নিজের জন্য নয় বরং জনগণের জন্য এসেছেন। আমি এখানে এমন একজন নেতার জন্য এসেছি যিনি আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

পাকিস্তানের বর্তমান সমস্যা সম্পত্তির অভাবে নয়, বরং আইনের শাসন নেই বলেই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইমরান । 

শরিফ ও জারদারি পরিবারের সমালোচনা করে ইমরান বলেছেন, ‘জাতীয় স্বার্থ বাদ দিয়ে তারা নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নিয়োগ দিচ্ছে।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময় দুর্নীতি মোকাবিলায় ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, ‘তিনি শক্তিশালীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়েছেন।’

ইমরান খান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় জবাবদিহি ব্যুরো ও অন্যান্য সংস্থা সত্যিই আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। বরং অন্য কোথাও থেকে তারা আদেশ পেত।’

আগাম নির্বাচনের দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে ফের লংমার্চ শুরু করেছে ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ। ফের হামলার হুমকি থাকা সত্ত্বেও এতে যোগ দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি আগাম নির্বাচনের দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করে পাকিস্তান-তেহরিক-ই-ইনসাফ। লংমার্চ চলাকালে দলটির চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গুলিবিদ্ধ হন। এরপর এই পদক্ষেপ স্থগিত থাকলেও আবারও শুরু হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি