সীমান্তে হত্যা বৃদ্ধি অনাকাঙ্ক্ষিত -------------- বিএসএফ ডিজি

আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ২২:৪৭

সীমান্তে হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়াকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অভিহিত করেছেন ভারতের বিএসএফের ডিজি শ্রী রজনীকান্ত মিশ্র। তিনি বলেছেন, এ হত্যার ঘটনা কেন বেড়ে গেছে—তা আমরা খতিয়ে দেখছি। তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে আমাদের বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

চার দিনব্যাপী বিজিবি-বিএসএফ ডিজি পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন শেষে গতকাল পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে উভয় দেশের প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএসএফ ডিজি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গত বছর সীমান্তে একজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। পক্ষান্তরে বাংলাদেশি চোরাচালানিদের হামলায় ৬ জন ভারতীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন। বিএসএফ প্রথমেই আগ্নেয়াস্ত্র যাতে ব্যবহার না করে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া আছে। কিন্তু কখনও কখনও অবস্থা এমন হয়, চোরাচালানকারিরা লাঠি, পাথর, ধারালো অস্ত্র নিয়ে সীমান্তরক্ষাকারীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। তখন আত্মরক্ষার্থে আমরা গুলি (ফায়ার আর্মস) চালাই। তবে কাউকে টার্গেট করে চালানো হয় না। কিন্তু সীমান্তরক্ষাকারীদের ওপর হামলা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনা ঘটে।

বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিনিধিসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সীমান্ত সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ ১৯ সদস্যের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। 

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত সীমান্তে ১৫ জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ ডিজি বলেন, ‘মানুষের জীবন রক্ষা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সীমান্ত এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড কারো কাম্য না।  আমরা সীমান্তে সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরি। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে।’

বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীনের কার্যক্রম মোকাবিলায় দুই দেশ কীভাবে কাজ করে, জানতে চাইলে বিএসএফ মহাপরিচালক রজনীকান্ত বলেন, ‘বেশ কয়েক মাস ধরে আমাদের মধ্যে খুব বেশি তথ্যের আদান-প্রদান হচ্ছে। আমরা কোনো তথ্য পেলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি বিজিবিকে জানাই। বিজিবি কোনো তথ্য পেলে আমাদের জানায়। এ তথ্য অনুযায়ী সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনাও করা হয়।’

ভারতের বিভিন্ন এলাকায় জেএমবি-এর জঙ্গিরা আশ্রয় নিয়ে সংগঠিত হয়। এরপর বাংলাদেশে হামলা চালায়। এ বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উগ্রবাদ উভয় রাষ্ট্রের জন্যই সমস্যা। সম্মেলনে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি।’

তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দুই বাহিনীর ভেতরে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান হচ্ছে। তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনাও হয়।’

ভারত থেকেও বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ করছে। এর উত্স কোথায় জানতে চাইলে বিএসএফ প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত কোনো দেশ এর জন্য দায়ী না। ইয়াবার জন্য তৃতীয় একটি দেশ দায়ী। ভারতেও এর আসক্ত রয়েছে।’

ফেলানী হত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ প্রধান বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। ’

প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে লিখিত বক্তব্য দেন বিজিবি প্রধান। বিজিবি প্রধান বলেন, ‘দুই বাহিনীর মধ্যে যাতে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ থাকে, সেজন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিএসএফ দিল্লি­ থেকে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শুরু করে সেটি আমাদের ঢাকায় বিজিবি সদর দফতরে এসে শেষ হবে। ২০ ডিসেম্বর বিজিবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটা বিএসএফ করবে বলে জানিয়েছে।’