রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

আরপিও সংশোধন, ইসি ৩ বার চিঠি দিলেও সাড়া নেই আইন মন্ত্রণালয়ের

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২২, ০০:৩৯

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী প্রস্তাবের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তিন বার চিঠি দিলেও সাড়া দিচ্ছে না আইন মন্ত্রণালয়। এতে বিব্রত নির্বাচন কমিশন। তাই বাধ্য হয়ে শেষ বারের মতো চিঠি দিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অনুরোধ ও চাহিদা উপেক্ষিত হলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজেদের দায়িত্ব পালনে আবশ্যক সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে না। সংবিধানের ১২৬ অনুচ্ছেদের বিধানমতে দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা যে নির্বাহী কর্তৃপক্ষের কর্তব্য, সে বিষয়টিও চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল রবিবার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মো. আব্দুল হালিম খান চতুর্থ বারের মতো আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিবের কাছে এমন চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সাড়া দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের কী অবস্থান, তা জানতে চেয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি বলেন, আরপিও সংশোধন নিয়ে তিন বার চিঠি দিয়েও আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সাড়া না পাওয়ায় এর আগে শেষ বারের মতো চিঠি দিয়েছে তার কমিশন। এতে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সাড়া দেওয়ার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু সময় বেঁধে দিয়েছি, ঐ সময়ের মধ্যে আমাদের প্রত্যাশা যে তারা একটা রেসপন্স নিশ্চয় করবেন।’

তিনি বলেন, আইন তো আর কমিশন সরকার না, করবে পার্লামেন্ট ও সরকার। তারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটির বিপরীতে সরকার অবশ্যই মনে করতে পারে এর যুক্তি নেই, তাহলে তারাও পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু একটি জবাব তো দিতে হবে। সিইসি বলেন, ‘আমরাও তো অনন্তকাল ধরে একটা ম্যাটার (বিষয়) পারসিউ করতে পারব না। এজন্য আমরা বিষয়টা শেষ করে দিতে চাই। যদি আর কোনো রেসপন্স না হয়, আমরা অন্য কাজে মনোনিবেশ করব। বিষয়টা নিয়ে হয়তো আমাদের আর পারসিউ করতে হবে না।’

যদি জাবাব না আসে, আইনি সংস্কারও না হয়, ভোট কেমন হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘সেটা ঐ তারিখটা (১৫ ডিসেম্বর) আসুক, তার পরে আমরা যদি মনে করি যে আমাদের কী করতে হবে, তখন কমিশন বৈঠকে বসে হয়তো একটা সিদ্ধান্ত নেব। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কি না, কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তখন আমরা সেটা বিবেচনা করে দেখব।’

গুরুত্ব বলেই তো সংশোধনের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন—এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘না, সবকিছুই যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ তা নয়। আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যার সবকিছুই যে সব সময় অ্যাড্রেস হবে তা তো না এবং সরকারেরও একটা নিশ্চয় যুক্তি আছে বা যুক্তি থাকবে। আমরা যেটা প্রত্যাশা করতে পারি, সরকারেরও যুক্তি থাকতে পারে, যে না; প্রয়োজন নেই। এটা অলরেডি অ্যাড্রেস আছে কোথাও। যদি অ্যাড্রেস হয়ে থাকে, সেটাও যদি আমরা জানতে পারি, তাহলে এই জিনিসটা নিয়ে আর আমাদের পারসিউ করার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু সেটাই আমরা চেয়েছিলাম যে, সরকারের রেসপন্স কী? তাদেরও এই আইনটা নিয়ে একটা যুক্তি থাকতে পারে, কারণ অথরিটি তারা। অথরিটি সরকার ও পার্লামেন্ট। তারা যদি মনে করে পর্যাপ্ত আইন রয়ে গেছে। এ বিষয়ে করার কিছু নেই, এইটুকু আমাদের জানিয়ে দিলেও আমরা সেটা বিবেচনা করতে পারতাম।’ আইন সংশোধন না হলে কি প্রত্যাশিত ভোট হবে—এই প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনো মন্তব্য এখন আর করব না, পর্যাপ্ত বলেছি।’

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন